আদ-দ্বীনে ডিএমপির বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ ও রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নেমেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বিষাক্ত কোনো গ্যাস ছড়িয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আজ বুধবার দুপুরের পর পুলিশের এই বিশেষায়িত দলটি হাসপাতালে পৌঁছায়।
তদন্তকারী দলের একজন সদস্য জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। যে কক্ষে নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে উন্নত প্রযুক্তির ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়েছিল কি না, এবং ছড়িয়ে থাকলে তার ধরন ও পরিমাণ কেমন ছিল—তদন্ত শেষেই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে, বেলা ১১টার দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন নমুনা ও আলামত সংগ্রহ করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ রুমে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করেন তাঁরা। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব ধরনের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা ছয় শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছি। সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল নমুনা সংগ্রহ করেছে। ফরেনসিক রিপোর্ট ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বর্তমানে হাসপাতালের এনআইসিইউতে আরও ৫টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের চিকিৎসা চললেও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং কয়েকজনের শরীর নীল বর্ণ ধারণ করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শিশুরা জন্মের পর সুস্থ ছিল কিন্তু পরবর্তীতে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাদের মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। মাতৃত্বের আনন্দ ছাপিয়ে সেখানে এখন বইছে শোকের মাতম।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ