২০০ টাকার ভাড়া ১০০০
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীদের আনন্দের সঙ্গী হয়েছে বৃষ্টি আর চরম ভোগান্তি। যাত্রীদের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং এই সুযোগে পরিবহনগুলো সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে। ২০০ টাকার পথ পাড়ি দিতে এখন যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে এক হাজার টাকা পর্যন্ত।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা, ভোগড়া ও কালিয়াকৈর এলাকায় এমন চিত্র চোখে পড়ে। বৃষ্টির কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
বাস না পেয়ে এবং অতিরিক্ত ভাড়ার হাত থেকে বাঁচতে অনেক যাত্রীই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। কুড়িগ্রামের রাজিবপুরগামী যাত্রী রমজান আলী তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ট্রাকে উঠেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “গত ঈদে বাড়ি যেতে পারিনি, তাই এবার ঝুঁকি থাকলেও বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে ট্রাকেই রওনা দিয়েছি। বাসে একদিকে সিট নেই, অন্যদিকে ভাড়া আকাশচুম্বী।”
একই অবস্থা সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী স্বপন মিয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ২০০-৩০০ টাকা, এখন সেখানে এক হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। নাটোরগামী পোশাককর্মী জুলেখা খাতুনও জানান একই ভোগান্তির কথা। তার ভাষ্যমতে, কিছু কিছু রুটে তিন-চারশ টাকার ভাড়া দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কলকারখানাগুলোতে তিন ধাপে ছুটি দেওয়া হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার অধিকাংশ কারখানা ছুটি হলেও আজ বুধবার আরও ২৮০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে গাজীপুরের প্রায় ৩০ লাখ শ্রমজীবী মানুষ একযোগে নাড়ির টানে বাড়ির পথে ছুটছেন।
এদিকে মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী ডাকার সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে। অনেকে এর প্রতিবাদ জানালেও উপায়ান্তর না দেখে শেষ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়ায় গাড়িতে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন। মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে কোনাবাড়ি, মৌচাক ও চন্দ্রা পর্যন্ত যানবাহনের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওগাতুল আলম জানান, দুপুরের পর মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ কিছুটা কমে আসতে পারে। ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে হাইওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ