ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে চার অভিযোগে মামলার ঘোষণা ঢাবি অধ্যাপক কার্জনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।
অধ্যাপক কার্জন তাঁর বক্তব্যে বলেন, "কয়েকটি কারণে ইউনূস ও তাঁর সহযোগীদের (ইউনূস অ্যান্ড গং) বিচার হওয়া উচিত।" তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংবিধান লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. ইউনূস যেসব চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি মামলা করার কথা জানান তিনি।
মামলার চতুর্থ কারণ হিসেবে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাসভবন ভাঙচুরের ঘটনাকে তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আরেকটি মামলা আমি করব ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুর নিয়ে। সেখানে থাকা দুষ্প্রাপ্য নথিপত্র ও প্রমাণাদি দেশি-বিদেশি কার ইন্ধনে বারবার ধ্বংস করা হলো এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কারা ভেতর থেকে এটি হতে দিয়েছেন, তা জানা প্রয়োজন।" ওই হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা সেনাবাহিনী কেন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটি রক্ষা করল না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি এই মামলা দায়ের করবেন বলে জানান।
এছাড়া, বর্তমান সরকারের অধ্যাদেশ জারির প্রবণতা নিয়েও সমালোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক। গত দেড় বছরে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হওয়াকে 'অস্বাভাবিক বিষয়' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "গত ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।" এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও যুক্ত করেন, "এই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৩২টিই বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।"
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ