বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অনিয়মের হিসাব চাওয়ায় সহকারী প্রধান শিক্ষক কর্তৃক সহকর্মী লাঞ্ছিত

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
May 22, 2026 - 10:12
May 22, 2026 - 10:12
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অনিয়মের হিসাব চাওয়ায় সহকারী প্রধান শিক্ষক কর্তৃক সহকর্মী লাঞ্ছিত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভালুকশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির হিসাব খতিয়ে দেখতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তদন্ত কমিটির এক সদস্য। অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ভালুকশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির সদস্য ও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ওমর আলী সরদার এবং ধর্মীয় শিক্ষক মো. ছরোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

এরই ধারাবাহিকতায়, গত বুধবার সকালে সহকারী প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন ২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৮ মে পর্যন্ত প্রায় ৫০টি খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিটির কাছে জমা দেন। তদন্তকালে ওই হিসাবের ২০টি বিষয়ে গরমিল শনাক্ত করেন কমিটির সদস্যরা। এই ঘটনার জেরে পরীক্ষার হল থেকে ওমর আলী সরদারকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মহাসিন কাজী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী সোহাগ সরদার জোরপূর্বক ধরে সহকারী প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিনের কাছে নিয়ে যান। এ সময় জহির উদ্দিন তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর অবস্থায় ওই শিক্ষককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জহির উদ্দিনের শ্বশুরবাড়ি ওই গ্রামেই হওয়ায় তিনি স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম করে আসছেন।

এ বিষয়ে জানতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান পিন্টু ও অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও জহির উদ্দিন কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মহাসিন কাজী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী সোহাগ সরদার জানান, তারা শিক্ষকদের কেবল তর্ক করতে দেখেছেন, কোনো মারামারি হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ঘটনায় একাডেমিক সুপারভাইজার প্রাণ কুমার ঘটককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow