বিএনপি-এনসিপি উত্তেজনা, জিইসি মোড়ে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

অনলাইন ডেস্কঃ
May 18, 2026 - 12:28
বিএনপি-এনসিপি উত্তেজনা, জিইসি মোড়ে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

চট্টগ্রামে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান'-এর স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

সোমবার (১৮ মে) সকালে এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ১৮ মে থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেছে পুলিশ।

যে কারণে এই উত্তেজনা:
রোববার (১৭ মে) রাতে নগরীর টাইগারপাস থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারের পিলারে আঁকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বেশ কয়েকটি গ্রাফিতি মুছে হলুদ ও সাদা রং করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রাতেই টাইগারপাস এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

বিক্ষোভকালে এনসিপি মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘অবৈধ মেয়র’ আখ্যা দিয়ে বলেন, "ফ্লাইওভারের পিলারের গ্রাফিতি মুছে সেখানে বিজ্ঞাপনের জন্য সিটি করপোরেশনের সাথে যোগাযোগের কথা লিখে দেওয়া হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় যে, সিটি করপোরেশনই এই গ্রাফিতিগুলো মুছে দিয়েছে।"

মেয়রের বক্তব্য:
গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন ও হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে আসছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার কোনো নির্দেশ আমার বা সিটি কর্পোরেশনের কোনো বিভাগ থেকে দেওয়া হয়নি।" 

এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। মেয়রের এই বিবৃতি এবং এনসিপির বিক্ষোভের পরই দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে পুলিশকে ১৪৪ ধারার মতো এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow