কুমিল্লার তিতাসে জহির হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে কুপিয়ে হত্যা
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জহির হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল লতিফ ভূঁইয়াকে (৫০) কুপিয়ে ও গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফেরার কিছুদিনের মাথায় সোমবার রাতে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে আব্দুল লতিফ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
খবর পেয়ে তিতাস থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লতিফের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি গুলি উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পুরোনো শত্রুতা ও প্রতিশোধ:
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে ভিটিকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জহিরকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া ছিলেন সেই আলোচিত মামলার প্রধান আসামি। দীর্ঘ পাঁচ মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন। স্থানীয়দের ধারণা, জহির হত্যার প্রতিশোধ নিতেই লতিফের ওপর এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য:
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল হক জানান, ‘৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত মানিককান্দি গ্রামে গিয়ে আহত লতিফকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও গুলি জব্দ করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় লতিফ মারা গেছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।’
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ