দৌলতপুরে সাগর ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রিতে চরম অনিয়ম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার ‘সাগর ফিলিং স্টেশনে’ জ্বালানি তেল বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে সংবাদকর্মীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তারাগুনিয়া সাগর ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকার মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক সাধারণ মানুষ এক দিন আগে এসে পাম্পের সামনে রাত কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সকাল থেকে তেল দেওয়া শুরু হলেও সাধারণ মানুষের চেয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দিতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে স্লিপ নিয়ে এসে সরকারি কর্মচারীরা নিয়ম ভঙ্গ করে দুই-তিন বার করে তেল নিচ্ছেন। এমনকি তারা ড্রাম বা কন্টেইনার ভরেও তেল নিয়ে যাচ্ছেন, যা সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করছে।
পাম্পের মালিক শাওন হোসেন তেল বিক্রির আগের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কিছু নিয়ম ও সময়সূচী প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল—সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সাধারণ জনগণ এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পুলিশ, উপজেলা কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা তেল পাবেন। কিন্তু বাস্তবে এসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের আত্মীয়-স্বজন ও প্রভাবশালীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দিচ্ছেন। এছাড়া পুলিশ সদস্যরা পোশাকে এসে কোনো নিয়ম না মেনেই নিজেদের ইচ্ছেমতো তেল নিয়ে যাচ্ছেন।
সবচেয়ে অবহেলার শিকার হচ্ছেন জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকরা। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য যাতায়াতে তেলের প্রয়োজন হলেও পাম্প কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের কোনো মূল্যায়ন করছে না। অনেক সাংবাদিক রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও তেল না পেয়ে ক্ষোভের সাথে ফিরে গেছেন। পাম্প মালিকের কাছে তেলের কথা বললে তিনি কেবল ‘দিচ্ছি-দিচ্ছি’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোনো লাইনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতায় তারা সংবাদ সংগ্রহের কাজে বিপাকে পড়ছেন।
সাধারণ মানুষ ও সংবাদকর্মীদের এই চরম ভোগান্তি নিরসনে এবং তেল বিক্রিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নিয়ম মেনে যেন সাংবাদিকসহ সকল শ্রেণীর মানুষ হয়রানিমুক্তভাবে তেল সংগ্রহ করতে পারেন।
What's Your Reaction?
দৌলতপুর প্রতিনিধি, কুষ্টিয়াঃ