অবৈধভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় রাতের আঁধার নামলেই শুরু হয় অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব। ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে নির্বিচারে ফসলি জমি ও ভিটেমাটি কেটে দেদারসে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্যের (মেম্বার) বিরুদ্ধে। এতে একদিকে যেমন আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চরম হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও গ্রামীণ অবকাঠামো।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের কাজির কুড়িয়াল এলাকায় এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সেকেন কাজি। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি মাটি কাটার জন্য বেছে নিয়েছেন রাতের বেলা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে ফসলি জমি ও বসতভিটার মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাটি বহনের জন্য ব্যবহৃত ভারী ট্রলি ও ট্রাক্টর গ্রামীণ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করায় রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে সড়কগুলো। এছাড়া নির্বিচারে আবাদি জমি কেটে নেওয়ায় কৃষিজমি তার উর্বরতা হারাচ্ছে এবং এলাকার পরিবেশের মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য সেকেন কাজির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত নির্বিকারভাবে বলেন, "সবখানেই তো মাটি কাটা চলছে, আমি একটু-আধটু কাটছি, এতে আর কী হবে!" রাতে মাটি কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, "আপনারা তো জানেন, দিনের বেলায় মাটি কাটলে প্রশাসনের ব্যাপার-স্যাপার (ঝামেলা) থাকে। রাত নীরব থাকে, তাই রাতেই মাটি কেটে নিতে হয়।"
প্রশাসনের নাকের ডগায় একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে বিস্মিত স্থানীয়রা। অবৈধ এই মাটি বাণিজ্য বন্ধে এবং পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
What's Your Reaction?
মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ