ভয় দেখিয়ে কেআইবির টাকা নিয়ে গেলেন কৃষকদল নেতা

অনলাইন ডেস্কঃ
৭ জুন, ২০২৬ ১০:৩৮ এএম
শেয়ার করুন:
ভয় দেখিয়ে কেআইবির টাকা নিয়ে গেলেন কৃষকদল নেতা

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) তহবিল থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অ্যাগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) সদস্যসচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লবসহ কয়েকজন। ‘জরুরি সংস্কার কাজ’-এর নামে প্রতিষ্ঠানের এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কেআইবির হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দিলীপ কুমার সরকার অভিযোগ করেন, গত ২১, ২৪ ও ২৫ মে—এই তিন দফায় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, এ সময় শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মির্জা তাহমিদ আহমেদ (রিজভী), আমান ও টিপুসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে দিলীপ কুমার সরকার দাবি করেছিলেন, কাজ না দিলে তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের (ফায়ার) হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে রহস্যজনকভাবে পরবর্তীতে তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে দাবি করেন, এই অর্থ সংস্কার কাজের বিল হিসেবেই দেওয়া হয়েছে।

নিয়মবহির্ভূত লেনদেন ও ব্যবস্থা গ্রহণ
জানা গেছে, কেআইবির নিয়ম অনুযায়ী হলভাড়া বাবদ পাওয়া অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তা হিসাব সহকারী দিলীপ কুমার সরকারের কাছে গচ্ছিত ছিল। অনুমোদনহীনভাবে ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এই অর্থ প্রদানের ঘটনায় গত ১ জুন কেআইবির প্রশাসক কৃষিবিদ মো. আজিজুল ইসলাম তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্ব অবহেলা এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযুক্ত সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মির্জা তাহমিদ আহমেদ (রিজভী) জানান, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি উপলক্ষে কেআইবিতে সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “কেআইবির নিজস্ব স্টাফদের কাজের মান ভালো না হওয়ায় আমরা কাজ করেছি। জেনারেটর, আসবাবপত্র ও রঙসহ বিভিন্ন কাজের জন্য ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকার বিল জমা দেওয়া হয়েছে। শাহাদাত হোসেন বিপ্লব ভাই শুধু কাজ পরিদর্শন করেছেন, আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।”

তবে এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা
এদিকে, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিলের বিপরীতে বর্ণিত সংস্কার কাজের (রঙ করা বা টাইলস পরিবর্তন) কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কেআইবির প্রশাসক মো. আজিজুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তহবিল থেকে এভাবে অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এই ঘটনা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট মহল এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।