জামায়াত এমপির ঘটনার তদন্ত চান তাসনিম জারা

অনলাইন ডেস্কঃ
২২ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩২ এএম
শেয়ার করুন:
জামায়াত এমপির ঘটনার তদন্ত চান তাসনিম জারা

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও এবং চাকরির সুপারিশ সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা। 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘনিষ্ঠ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের দাবি, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে গত ১৭ জুন তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। 

তবে এই দাবির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তরুণীর একটি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) প্রকাশ পায়। সেখানে দেখা যায়, গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে সবুজ কালির কলমে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। অথচ সেই সিভিতে তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। বিয়ের তারিখের পর সিভিতে কেন তাঁকে ‘অবিবাহিত’ দেখানো হলো এবং এমপি কেন সেখানে সুপারিশ করলেন—তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করেন তাসনিম জারা। 

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী মেয়েটির বয়স মাত্র ১৮ বছর এবং তিনি সদ্য এসএসসি পাস করে চাকরি খুঁজছিলেন। এ থেকে ধারণা করা যায়, তাঁর পরিবারে আর্থিক অনটন রয়েছে। আমাদের দেশে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের চাকরির জন্য প্রায়শই স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশের ওপর নির্ভর করতে হয়। এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে হয়তো ভরসা নিয়ে মেয়েটি বা তাঁর পরিবার এমপি সাহেবের দ্বারস্থ হয়েছিল এবং সিভিতে এমপির জোর সুপারিশের স্বাক্ষরও মিলেছে।

তাসনিম জারা প্রশ্ন তোলেন, এই সুপারিশের পেছনে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এটি কেবল কোনো সাধারণ ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং আশঙ্কা রয়েছে যে একজন সংসদ সদস্য পদের প্রভাব খাটিয়ে চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে কোনো অসহায় তরুণীকে নিজের কক্ষে নিয়ে গেছেন কি না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "সম্ভাবনা মানেই প্রমাণ নয়, তবে এই প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সংসদের নেই। যথেষ্ট প্রাথমিক তথ্য আমাদের সামনে এসেছে। তাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কলঙ্কমুক্ত হবেন, আর সত্য হলে সংসদের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।" সংসদ যদি এ বিষয়ে নীরব থাকে, তবে তা দরিদ্র মানুষকে জিম্মি করার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সুপারিশ প্রথার সমালোচনা করে এনসিপির সাবেক এই নেত্রী বলেন, ক্ষমতাবানদের এক লাইনের সইয়ে চাকরি হওয়ার এই ব্যবস্থাটি দরিদ্র মানুষকে জিম্মি করে রাখার একটি হাতিয়ার। রাজনৈতিক দলগুলো দুর্নীতিমুক্ত দেশের প্রতিশ্রুতি দিলেও এই সুপারিশের ব্যবস্থাটি কখনোই পরিবর্তন হয় না। আজকের এই ঘটনাটি মূলত সেই জিম্মিদশারই একটি চরম রূপ প্রকাশ করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।