দিল্লিতে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১৮০, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫০ এএম
শেয়ার করুন:
দিল্লিতে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১৮০, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুব ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরের দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন কয়েক শ বিক্ষোভকারী। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত সোমবার (২০ জুলাই) মধ্য দিল্লির সংসদ ভবন অভিমুখে আন্দোলনকারীদের পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এই ব্যাপক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। 

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মঙ্গলবার মধ্য দিল্লিতে আধা-সামরিক বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ‘সিজেপি’ জানায়, জন্তর মন্তরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, ‘আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। দিল্লি পুলিশের অমানবিক আচরণ থেকে আপনাদের রক্ষা করতে আমি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতাম।’ বিশেষ করে যেসব তরুণী ও নারী আন্দোলনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে মার খেয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।

আন্দোলনের সূত্রপাত যেভাবে:
মূলত গত মে মাসে অনুষ্ঠিত মেডিকেলে ভর্তির জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হন। পুনরায় পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হওয়ায় এবং প্রচণ্ড হতাশায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। বিক্ষোভকারীদের মতে, এটি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার গভীর দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ। এই ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছে আন্দোলনকারীরা।

অনলাইনে একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এই আন্দোলন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত সোমবারের পদযাত্রায় দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। গত ২৮ জুন থেকে অনশনে বসা লাদাখের প্রখ্যাত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানালে তা আরও গতি পায়। যদিও গত শনিবার পুলিশ তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যায়।

দাবি ও সরকারি তৎপরতা:
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
২. অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি।
৩. প্রশ্ন ফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১০ মিলিয়ন (১ কোটি) রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সরকারের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য কিছুটা সময় চেয়েছেন।

এদিকে কনফ্লিক্ট মনিটরিং গ্রুপ ‘এসিএলইডি’-র এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পার্ল পান্ডিয়া মনে করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের এই দমনপীড়ন জনগণের ক্ষোভকে আরও উসকে দিতে পারে। তার মতে, সাময়িকভাবে এই আন্দোলন থিতু হলেও, প্রশ্ন ফাঁস ও কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে তরুণদের এই দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষ মোদি সরকারের জন্য ভবিষ্যতে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।