‘গালি দিয়ে সিফাত কারাগারে, রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে’

অনলাইন ডেস্কঃ
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৩ এএম
শেয়ার করুন:
‘গালি দিয়ে সিফাত কারাগারে, রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে’

বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি ও গালাগালির অভিযোগে কলেজশিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। দেশে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘দ্বিমুখী নীতি’ এবং বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাসুদ কামাল সমসাময়িক রাজনীতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে অশালীন ভাষা ব্যবহারের ঘোর বিরোধী। তিনি লেখেন, “গালি আমি খুবই অপছন্দ করি। যেকোনো পরিস্থিতিতেই গালি দেওয়া অশোভন, অশ্লীল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু আমার পছন্দ-অপছন্দে তো আর দেশ চলবে না। চব্বিশের আন্দোলনের পর গালি এখন রাজনীতির স্বাভাবিক ভাষায় পরিণত হয়েছে। গালাগালি করে অনেকে রাতারাতি জাতীয় নেতা বনে গেছেন।”

আইন প্রয়োগে বৈষম্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে মাসুদ কামাল প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের পূর্ববর্তী একটি বিতর্কিত বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন। নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে উদ্দেশ্য করে রাশেদ খানের অশালীন মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি লেখেন, দায়িত্বশীল পদে থেকেও এমন অসংযত ভাষা ব্যবহারের পরও রাশেদ খানকে কোনো ধরনের আইনি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়নি।

ক্ষমতাসীন বলয়ের ব্যক্তির দায়মুক্তি এবং সাধারণ এক শিক্ষার্থীর গ্রেপ্তারের ঘটনার বৈপরীত্য তুলে ধরে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “বিপরীত দিকে গালি দিয়ে কলেজছাত্র সিফাত আবদুল্লাহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। আসলে সব গালি এক নয়। মনে হচ্ছে গালিতে কোনো সমস্যা নেই, গালিটা কাকে দেওয়া হচ্ছে সেটাই আসল দেখার বিষয়।”

আইনি ব্যবস্থার দ্বৈত আচরণের প্রতি তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে স্ট্যাটাসের শেষে মাসুদ কামাল মন্তব্য করেন, “গালি দিয়ে সিফাত কারাগারে, আর রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে!”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।