দুবাইয়ে যেভাবে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

অনলাইন ডেস্কঃ
১৪ জুন, ২০২৬ ৫:১৬ পিএম
শেয়ার করুন:
দুবাইয়ে যেভাবে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

আজ রোববার (১৪ জুন) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

যেভাবে জানা গেল গ্রেপ্তারের খবর
জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ও ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। বেনজীর আহমেদ বর্তমানে সেখানে পুলিশি হেফাজতে আটক আছেন।

দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া
বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন (Extradition) আবেদন করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলাদি প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল অনুমোদন করেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এনসিবি আবুধাবির সাথে সমন্বয় করে অতিদ্রুত তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
সাবেক এই পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে দেশের আদালতে একাধিক গুরুতর মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলোতে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:
দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা (প্রতারণা ও জালিয়াতি সংক্রান্ত)।
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা।
বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারা।

রেড নোটিশ ও বর্তমান অগ্রগতি
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সাবেক এই আইজিপিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা এবং ইন্টারপোল নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় বিগত ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল।

এই গ্রেপ্তারকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব। এই ঘটনা প্রমাণ করে, অপরাধী যতই শক্তিশালী বা প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।