দৌলতপুরে তীব্র নদীভাঙন: বিলীনের পথে দুই গ্রাম, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ হারুন অর রশীদ
২৭ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩১ পিএম
শেয়ার করুন:
দৌলতপুরে তীব্র নদীভাঙন: বিলীনের পথে দুই গ্রাম, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়াড় ও মাঝদিয়াড় গ্রামে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। পদ্মার (নদীর) ভয়াবহ রূপ ও অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি, বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক। ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে ভিটেমাটি হারানোর চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন দুই গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে অনেক স্বপ্ন ও দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়ানো বসতবাড়ি। নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভাঙনের হুমকিতে থাকা অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। প্রতি বছর ভাঙন তীব্র হলে কেবল আশ্বাসই মেলে, কিন্তু বাস্তবায়ন দেখা যায় না। দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণে স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে কোলদিয়াড় ও মাঝদিয়াড় গ্রাম দুটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর আকুল দাবি, আপৎকালীন সময়ে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলে ভাঙন রোধ করা হোক। একই সঙ্গে স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প গ্রহণ এবং ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সাহায্য ও পুনর্বাসনের সুব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তারা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই কোটি টাকার সম্পদ এবং হাজারো মানুষের বসতভিটা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপই এখন কোলদিয়াড় ও মাঝদিয়াড়বাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।