সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জনকে অপহরণকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ জুলাই, ২০২৬ ৪:৩৩ পিএম
শেয়ার করুন:
সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জনকে অপহরণকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে অপহৃত হন পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালী। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সেই অপহরণ ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) রাতে ঢাকার নিজ বাসা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকে অপহরণের মামলায় সহকারী পুলিশ সুপার ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তার নিজ বাসা থেকেই তাকে আইনের আওতায় আনা হয়।

কী ঘটেছিল ২০১২ সালে?
২০১২ সালের ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে পিরোজপুর থেকে এসেছিলেন সুখরঞ্জন বালী। কিন্তু ওই দিন ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি। পরবর্তী সময়ে তাকে সীমান্ত এলাকায় পাওয়া গেছে বলে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও তার পরিবার এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করে আসছিল যে, ট্রাইব্যুনাল চত্বর থেকেই তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে।

পটপরিবর্তন ও আইনি পদক্ষেপ
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, দীর্ঘ বছর পর প্রকাশ্যে এসে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালী। 

তার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধাপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে আসায় তাকে ‘গুম’ ও ‘ভয়াবহ নির্যাতনের’ শিকার হতে হয়েছিল। 

এই অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তদের তালিকায় অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন— আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক এ টি এম ফজলে কবির, মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়াল। সেই মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবার পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।