প্রসবকালে ভয়াবহ ভূমিকম্প: ইন্দোনেশিয়ায় টর্চের আলোয় জন্ম নিল ‘গেম্পিতা’

অনলাইন ডেস্কঃ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৫৯ পিএম
শেয়ার করুন:
প্রসবকালে ভয়াবহ ভূমিকম্প: ইন্দোনেশিয়ায় টর্চের আলোয় জন্ম নিল ‘গেম্পিতা’

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালে সন্তান প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচার চলছিল মারিয়া ফ্লোরিডা নোগো কেলেন (৩৯) নামের এক নারীর। ঠিক সেই মুহূর্তেই কেঁপে ওঠে পুরো ভবন, বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বন্ধ হয়ে যায় জরুরি ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা। তবে এমন চরম বিপর্যয়ের মুখেও পিছু হটেননি চিকিৎসকেরা। টর্চলাইটের আলোয় সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে এক নবজাতককে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন তাঁরা। 

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর বরাতে জানা যায়, ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের নাগেওকো এলাকায় এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে। গত ১৫ আগস্ট স্থানীয় সময় ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় মারিয়া প্রায় সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন। জটিল শারীরিক অবস্থার কারণে জরুরি ভিত্তিতে তাঁর সন্তান প্রসব না করালে খিঁচুনি হয়ে মায়ের প্রাণহানির মারাত্মক ঝুঁকি ছিল।

অস্ত্রোপচার চলাকালীন ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে হাসপাতালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিদ্যুৎ চলে যায়। চিকিৎসকদের সামনে তখন বিকল্প কোনো উপায় ছিল না।

অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়োনা সারা পারদেদে জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল ছিল। প্রিম্যাচিউর (অপরিণত) শিশুর জন্য বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন হলেও লাইফ-সাপোর্ট বা ভেন্টিলেটর কাজ করছিল না। তা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা ধৈর্য ধরে টর্চের আলোতেই অস্ত্রোপচার চালিয়ে যান।

ভূমিকম্পের পরবর্তী মৃদু কম্পনের (আফটারশক) মধ্যেই মাত্র ১ দশমিক ৩ কেজি ওজনের এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। ইন্দোনেশীয় শব্দ ‘গেম্পা’ (যার অর্থ ভূমিকম্প) থেকে নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘গেম্পিতা’। 

প্রসবের পর মারিয়ার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক চেষ্টায় তিনি শঙ্কামুক্ত হন। চিকিৎসকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মারিয়া বলেন, “হাসপাতাল ভেঙে পড়ার উপক্রম হলেও চিকিৎসকেরা আমাকে একা ফেলে যাননি।”

বর্তমানে হাসপাতাল ভবনের বাইরে খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী তাঁবুর পাশে ঘাসের ওপর একটি ইনকিউবেটরে শিশুটিকে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মা ও নবজাতক দুজনেই এখন আশঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল।

উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে প্রদেশটির বহু বাড়িঘর ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং খাদ্য-পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপ ও আতঙ্কের মাঝেও অন্ধকার অপারেশন থিয়েটারে টর্চের আলোয় ‘গেম্পিতা’র আগমন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নতুন জীবনের আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।