মাইক্রোবাসে বসে রাড্ডায় হামলা-লুটের নির্দেশ দেন মিষ্টি

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২৯ পিএম
শেয়ার করুন:
মাইক্রোবাসে বসে রাড্ডায় হামলা-লুটের নির্দেশ দেন মিষ্টি

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সদ্য পদত্যাগকারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সরাসরি সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, হামলার সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন আন-নূরী জামে মসজিদ সড়কে একটি সাদা মাইক্রোবাসে অবস্থান করে সহযোগীদের নিয়ে ঘটনার সরাসরি নির্দেশনা দিচ্ছিলেন তিনি।

পরিকল্পনা ও হামলার বিবরণ:
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার আগে শাহআলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে ‘শুটার লেলিন’ এবং বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনে লাঠিসোঁটাসহ লোকজন জড়ো হয়। মধ্যরাতে তারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় মিষ্টির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হানিফ মিয়া, মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল এবং শুটার লেলিন মাইক্রোবাসে চড়ে আশপাশের সড়কে মহড়া দেন এবং নির্দেশনা দেন। সে সময় স্থানীয় শ্রমিক দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকেও লাঠি হাতে পাহারায় থাকতে দেখা যায়।

হামলার নেপথ্যে জমি দখল: 
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির একাধিক নেতার দাবি, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখল করে সেখানে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের একটি বড় পরিকল্পনা থেকেই এ হামলা চালানো হয়। এতে মিষ্টির পাশাপাশি আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

দলীয় পর্যায়ে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান: 
ঘটনার তীব্রতা উপলব্ধি করে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি, মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। 

একই সঙ্গে শাহআলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, যুবদল নেতা নূর আলম, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের স্থানীয় পর্যায়ের অন্তত এক ডজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে যেকোনো অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

১৬ জন গ্রেপ্তার, নজরদারিতে মূল হোতারা:  
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পর্যন্ত ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সর্বশেষ শাহআলীর গুদারাঘাট এলাকা থেকে শুটার লেলিনের সহযোগী নূর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভাঙচুরে ব্যবহৃত ভেকুর (এক্সকাভেটর) চালককেও আটক করা হয়েছে। মিষ্টিসহ জড়িত অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের দাবি:  
এদিকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সমর্থকদের দাবি, এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ক্ষুণ্ণ করতে এবং ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁকে এ ঘটনায় জড়াচ্ছে। বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তাঁরা এলাকাতেই উপস্থিত ছিলেন না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।