সেপটিক ট্যাঙ্কে মেলে শিশুর লাশ, খুন করেন চাচি

অনলাইন ডেস্কঃ
২২ জুলাই, ২০২৬ ২:১৮ পিএম
শেয়ার করুন:
সেপটিক ট্যাঙ্কে মেলে শিশুর লাশ, খুন করেন চাচি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া ৬ বছরের শিশু তায়েবা হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পারিবারিক বিরোধ ও কটূক্তির প্রতিশোধ নিতে আপন চাচি আয়েশা খাতুন পরিকল্পনা করে সহযোগীদের নিয়ে শিশু তায়েবাকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। সম্প্রতি এ হত্যা মামলায় চাচিসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পিবিআই।

যেভাবে ঘটেছিল হত্যাকাণ্ড
পিবিআই সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তায়েবা মা-বাবাকে বলে খেলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, তার স্কুলশিক্ষিকা চাচি আয়েশা খাতুন তাকে ডেকে প্রতিবেশী শাহানাজ বেগমের লাকড়ির ঘরে নিয়ে যান। সেখানে আয়েশা ও রংমিস্ত্রি আসিফ ব্যাপারী শিশুটির হাত-পা চেপে ধরেন এবং শাহানাজ তার গলা টিপে ধরেন। একপর্যায়ে শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত করতে আয়েশা ঘটনাস্থলে থাকা একটি ব্লাউজ দিয়ে তায়েবার গলায় ফাঁস দেন। 

হত্যাকাণ্ড শেষে তায়েবার কান থেকে কানের দুল খুলে নেন আয়েশা। এরপর আসিফ ও আয়েশা মিলে শিশুটির নিথর দেহ টেনেহিঁচড়ে পাশের টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতর ফেলে ঢাকনা আটকে দেন। ঘটনা জেনেও বিষয়টি চেপে যান প্রতিবেশী নাছিমা বেগম। অন্যদিকে, তায়েবার কানের দুল ১৮ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করে ঢাকায় পালিয়ে যান শাহানাজ।

ঘটনার দুই দিন পর, ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে সেপটিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা সরানো দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে তায়েবার মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ
পিবিআইয়ের তদন্তে দেখা গেছে, পৈতৃক বাড়ির সীমানা নিয়ে তায়েবার বাবা টিটু সরদার ও তার ভাই শাহান সরদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এর মধ্যেই শাহান ও আয়েশা দম্পতির বড় মেয়ে প্রেমের সম্পর্কের জেরে এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনা নিয়ে তায়েবার বাবা-মা আয়েশার পরিবারকে অনবরত কটাক্ষ ও খোঁচা দিয়ে কথা বলতেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আয়েশা খাতুন তায়েবার পরিবারকে বড় ধরনের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করেন এবং সহযোগীদের নিয়ে তায়েবাকে হত্যা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই গোপালগঞ্জের পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম জানান, তুচ্ছ ঘটনা ও পারিবারিক ক্ষোভের জেরে শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তে চাচি আয়েশা খাতুন, প্রতিবেশী শাহানাজ বেগম, রংমিস্ত্রি আসিফ ব্যাপারী এবং তথ্য গোপনকারী নাছিমা বেগমের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত চাচি আয়েশা খাতুন আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।