বিজয়নগরে পল্লী বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলের অভিযোগ: চরম ক্ষোভে গ্রাহকেরা

মোঃ শামীম মিয়া, বিজয়নগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২৭ এএম
শেয়ার করুন:
বিজয়নগরে পল্লী বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিলের অভিযোগ: চরম ক্ষোভে গ্রাহকেরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আখাউড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিটার না দেখে মনগড়া ইউনিট লেখা, অতিরিক্ত বিল তৈরি ও গ্রাহক হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ কর্মীদের এমন দায়িত্বহীনতায় সাধারণ ও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডাররা সরেজমিনে মিটার পরীক্ষা না করেই ডায়েরিতে আনুমানিক ইউনিট লিখে নিয়ে যান। এতে মাস শেষে অনেকের বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক সমাধান না দিয়ে বলা হয়, “এই মাসের বিল পরিশোধ করে দিন, আগামী মাসে সমন্বয় করা হবে।” ফলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকদের বাড়তি অর্থের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।

এক ভুক্তভোগী গ্রাহক সুনির্দিষ্ট অনিয়মের কথা তুলে ধরে জানান, প্রায় ১৮–১৯ দিন আগে আখাউড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা তাঁর বাড়ির মিটারের বিল প্রস্তুত করতে আসেন। তখন মিটারে রিডিং ১৯৬০ ইউনিট থেকে বাড়িয়ে ২০৭০ ইউনিট উল্লেখ করে ডায়েরিতে নোট করা হয়—অর্থাৎ ব্যবহার দেখানো হয় ১১০ ইউনিট। কিন্তু ১৮ দিন পর গ্রাহক নিজে মিটার পরীক্ষা করে দেখতে পান, বর্তমান রিডিং মাত্র ২০৪৬ ইউনিট। অর্থাৎ আরও ১৮ দিন ব্যবহারের পরও রিডিং আগের দেখানো ২০৭০ ইউনিটে পৌঁছেনি। এতে স্পষ্ট হয় যে, মিটার না দেখেই অন্তত ৪০ ইউনিট অতিরিক্ত বিল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। 

একই ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ওই এলাকার আরও অনেক গ্রাহক। একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দিনমজুরি বা ছোটখাটো ব্যবসা করে সংসার চালাই। মাস শেষে অতিরিক্ত বিলের টাকা জোগাড় করা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেখানে কর্মীদের ভুলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, সেখানে সেই আর্থিক মাশুল কেন গ্রাহককে দিতে হবে? ভুল যে মাসে হয়েছে, সংশোধনও সেই মাসেই হওয়া উচিত।”

এদিকে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ নিয়ে আখাউড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে যোগাযোগ করা হলে উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) গ্রাহকদেরকে বিলের কাগজ ও মিটারের রিডিংয়ের ভিডিওসহ অফিসে আসার পরামর্শ দেন। পরে একাধিক ভুক্তভোগী অফিসে গেলে সেখানে একই অভিযোগ নিয়ে আসা আরও অনেক গ্রাহকের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। 

সেখানে এক গ্রাহক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “গত ছয় মাসেও আমার মিটারে এত বিল আসেনি। হঠাৎ করে এত টাকা বিল কীভাবে এলো বুঝতে পারছি না! মনে হচ্ছে মিটারের ওপর যেন ভূতের আসর পড়েছে!”

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের মিটার রিডিং ও বিল যাচাই-বাছাই শেষে ৪০ ইউনিট বেশি লেখার বিষয়টি প্রমাণিত হয় এবং অফিস কর্তৃপক্ষ বিলটি সংশোধন করে দেয়। 

এ বিষয়ে আখাউড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অসাবধানতাবশত ভুল হয়েছিল, অভিযোগ পাওয়ার পর তা সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।”

তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও গ্রাহকদের দাবি, ভুল রিডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষকে যেন আর্থিক ক্ষতি বা মানসিক হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেজন্য মাঠপর্যায়ের কর্মীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিলিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রাহক ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।