লক্ষ্মীপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১১:০২ এএম
শেয়ার করুন:
লক্ষ্মীপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ

লক্ষ্মীপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৪৮ গ্রাহকের ১ কোটি ৫ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের দীর্ঘদিনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াখালী। এ ঘটনায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. নাছির উদ্দিন ওরফে খোকন (৫৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) তাসলিমা ইসলামের আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তারকৃত নাছির উদ্দিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে।

পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাছির উদ্দিন ২০১৯ সাল থেকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির লক্ষ্মীপুর এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতাধীন মিরিকপুর আউটলেটের দায়িত্বে ছিলেন। সেখানে তিনি মো. শহিদুল্লাহ ওরফে জিয়াকে ট্রেইলার হিসেবে নিয়োগ দেন। তারা যোগসাজশ করে গ্রাহকদের জমা দেওয়া টাকা মূল ব্যাংকিং হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করতেন।

গ্রাহকদের কাছে প্রতারণার বিষয়টি আড়াল করতে সার্ভারে ত্রুটির অজুহাত দেওয়া হতো। এরপর গ্রাহকদের হাতে লেখা ভুয়া রশিদ এবং ভুয়া বায়োমেট্রিক ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) স্লিপ প্রদান করা হতো। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ৪৮ জন গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে গ্রাহকেরা টাকা উত্তোলন ও হিসাব হালনাগাদ করতে গেলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই লক্ষ্মীপুর সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সদর থানা পুলিশ ওই বছরের ৩ আগস্ট নাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তবে মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার পিবিআই নোয়াখালীর ওপর ন্যস্ত করেন। তদন্তভার গ্রহণের পর পিবিআই নোয়াখালীর এসআই (নিরস্ত্র) মো. কামাল আব্বাস আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে।

পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটির নিরপেক্ষ ও নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর মূল আসামি অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।