হাতিয়ায় ফার্মেসিতে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত আটক

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৯:০১ পিএম
শেয়ার করুন:
হাতিয়ায় ফার্মেসিতে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত আটক

নোয়াখালীর হাতিয়ায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফার্মেসিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মো. হেলাল উদ্দিন (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রাম বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

আটক হেলাল উদ্দিন ওরফে ‘হেলাল মাস্টার’ হরণী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের বেলায়েত খলিফার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেলাল উদ্দিন পূর্বে স্থানীয় আদর্শ গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন; তবে দুই-তিন বছর আগে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে দেন। রোববার সকালে ৯ বছর বয়সী ওই শিশুকে কৌশলে নিজের ফার্মেসির ভেতরে ডেকে নেন তিনি। পরে দোকানের পেছনের অংশে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী দোকানের টিনের ছিদ্র দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে হেলাল উদ্দিন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে হাতেনাতে আটক করে মারধর শেষে চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করে।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে গত ৪ আগস্ট একই এলাকায় আরেকটি শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সালিশ বসেছিল। সেখানে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫০টি বেত্রাঘাত করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, হেলাল উদ্দিন অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাম্প্রতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শুরু করেন। 

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, "হেলাল জামায়াতের কোনো কর্মী নন। তিনি পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর নিজেকে বাঁচাতে তিনি জামায়াতের একটি মিছিলে ঢুকে পড়েছিলেন।"

চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন রাসেদ জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। 

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, "এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করছেন। মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।