রায় শুনে জ্ঞান হারালেন আওয়ামী লীগ নেতা

অনলাইন ডেস্কঃ
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৩:১৮ পিএম
শেয়ার করুন:
রায় শুনে জ্ঞান হারালেন আওয়ামী লীগ নেতা

ধর্ষণের মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ শুনে আদালতের এজলাসেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন মেহেরপুরের এক আওয়ামী লীগ নেতা। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালু। তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। 

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মণ্ডলের ছেলে।

আদালতের রায় ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা:
মামলার নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। 

রায়ে বিচারক নির্দেশ দেন, আসামির ওপর ধার্যকৃত পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা মামলার ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ওই অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন সম্পদ থেকে তা আদায় করা হবে এবং ক্ষতিপূরণের এই দাবি অন্য যেকোনো দাবির চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে। 

এ ছাড়া আইনের বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে হস্তান্তর করা হবে।

রায় শুনেই অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি:
আদালত সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার পর আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। তবে রায় শুনে এজলাস থেকে নামার পরপরই কলিম উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

আইনি দিক ও রাষ্ট্রপক্ষের সন্তোষ: 

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সংক্ষুব্ধ আসামি চাইলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। এ ছাড়া বিচারাধীন সময়ে তার কারাভোগের মেয়াদ মূল সাজা থেকে বাদ যাবে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, "দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত যথাযথ শাস্তি দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ অত্যন্ত সন্তুষ্ট।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।