খোকসায় ইস্কনের নামে অর্থ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ
২০ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন:
খোকসায় ইস্কনের নামে অর্থ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ

কুষ্টিয়ার খোকসায় ইস্কন মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ ও জমি রেজিস্ট্রিতে জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমোহর মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক শুভেন্দু বিকাশ সরকার ওরফে শুভর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমেরিকা প্রবাসী উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা ইস্কন কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও খোকসা ইস্কন মন্দিরের অন্যতম উদ্যোক্তা নিধি গৌর দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করে জানান, খোকসায় মন্দির নির্মাণের কথা বলে সাধারণ ভক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা তোলা হয়। কিন্তু কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মোট ১০ শতাংশের বেশি জমির মধ্যে মাত্র ২.২ শতাংশ জমি ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘ’ নামের একটি নিবন্ধনবিহীন সংগঠনের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। ওই দলিলে শুভেন্দু বিকাশ সরকার নিজেকে ‘পরিচালক’ দাবি করে স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বাকি প্রায় ৮ শতাংশ জমি শুভর দুই সহযোগী ড. হরগোবিন্দ এবং শংকপাণির নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইস্কনের কোনো অনুমোদন কিংবা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়াই এ জমি কেনা হয়। ফলে আইনগতভাবে এ জমির সঙ্গে কেন্দ্রীয় ইস্কনের কোনো বৈধ সম্পৃক্ততা নেই। 

এ বিষয়ে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘে’র কোষাধ্যক্ষ শংকপাণি দাস দাবি করেন, কুষ্টিয়া জেলা ইস্কন কমিটির সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারীর অনুমতি ও জ্ঞাতসারেই সবকিছু করা হয়েছে। তবে সংবাদকর্মীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কোনো লিখিত অনুমোদনপত্র দেখতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এদিকে অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘প্রতারণা’ আখ্যা দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা ইস্কন মন্দিরের সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “ইস্কনে ‘পরিচালক’ বলে কোনো পদ নেই। শুভ নিয়মবহির্ভূতভাবে কারও অনুমতি ছাড়াই নিজস্ব রশিদ ছাপিয়ে অর্থ তুলেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি বা আমাকে না জানিয়ে গোপনে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘে’র নামে জমিটি কেনা হয়, যেখানে ইস্কনের নাম পর্যন্ত রাখা হয়নি। যেকোনো অনুমোদনের এখতিয়ার কেবল ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শুভ উল্টো আমার সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শুভেন্দু বিকাশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও তিনি জরুরি কাজের কথা বলে দ্রুত সরে যান। পরবর্তীতে মুঠোফোনে সব প্রমাণপত্র দেখানোর আশ্বাস দিলেও নির্ধারিত সময়ে একাধিকবার ফোন করা এবং তার এলাকায় গিয়েও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে অর্থ ও জমি নিয়ে এমন জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় ভক্ত ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে এবং ভক্তদের দানকৃত অর্থ উদ্ধারে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।