৩২ বছর পর মৃত্যুদণ্ড, বিষাক্ত ইনজেকশনেও মৃত্যু হলো না আসামির

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৬ পিএম
শেয়ার করুন:
৩২ বছর পর মৃত্যুদণ্ড, বিষাক্ত ইনজেকশনেও মৃত্যু হলো না আসামির

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন ক্রিস্টিয়া পাইক (Christa Pike) নামের এক নারী কয়েদি। তবে ইনজেকশনের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে (ভেন্টিলেটর) অচেতন অবস্থায় রয়েছেন তিনি।

আদালতে ক্রিস্টিয়ার আইনজীবীদের দাখিল করা নথির বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ ৩২ বছর পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার রাতে তার শরীরে প্রাণঘাতী ‘পেনটোবারবিটাল’ ইনজেকশন পুশ করা হয়। কিন্তু ওষুধটি প্রয়োগের পর তার মৃত্যু হয়নি; উল্টো তিনি তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন, কাঁদতে শুরু করেন এবং তার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে কার্যকর প্রক্রিয়াটি স্থগিত রেখে তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা বর্তমানে তার শরীর থেকে ওই ওষুধের বিষাক্ত প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছেন।

হত্যার পটভূমি:  
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ক্রিস্টিয়া পাইক তার তৎকালীন প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লেমারকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। এ ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারাগারে মৃত্যুদণ্ডের প্রহর গুনছিলেন।

ক্ষমার আবেদন আইনজীবীদের:  
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থ ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর ক্রিস্টিয়ার আইনজীবীরা তার সাজা মওকুফের (ক্ষমা) আবেদন জানিয়েছেন। তাদের যুক্তি, ক্রিস্টিয়া ইতোমধ্যে জীবনের তিন দশকেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। তার ওপর ব্যর্থ কার্যকরের মাধ্যমে তাকে চরম অমানবিক যন্ত্রণার মুখে পড়তে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুনরায় তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি ক্ষমা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্রিস্টিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কারাগার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।