৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৫৫ পিএম
শেয়ার করুন:
৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জালিয়াতি এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে রেকর্ড তিন লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। দেশের সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে এ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ভবিষ্যতেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ভিসা বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি, অভিবাসন আইনের ব্যত্যয়, প্রতারণা এবং ভুল তথ্য প্রদান। এছাড়া যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও যারা ভিসা পেয়েছিলেন, তথ্য যাচাইয়ের পর তাদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকা এবং সহায়তা করার অভিযোগে চার সহস্রাধিক ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

ভিসা বাতিলের পরিসংখ্যান:
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
২৫ শতাংশ ভিসা বাতিল হয়েছে শারীরিক হামলা ও সহিংস অপরাধের অভিযোগে।  
২২ শতাংশ ক্ষেত্রে কারণ ছিল মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো (DUI)।  
৭ শতাংশ চুরির অপরাধে।  
৭ শতাংশ মাদকদ্রব্য অপব্যবহার বা চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত থাকার দায়ে বাতিল করা হয়েছে।  

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে যারা আইন অমান্য করছেন, প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

উল্লেখ্য, ভিসা বাতিলের এই হার বেশ কয়েক মাস ধরেই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে রেকর্ড এক লাখ ভিসা বাতিলের তথ্য জানানো হয়। পরবর্তীতে আগস্টে তা বেড়ে এক লাখ ৭৫ হাজারে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত সেই সংখ্যা রেকর্ড তিন লাখ ছাড়িয়ে গেল।

এদিকে নতুন ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রেও নিয়মকানুন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর করা হয়েছে। ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা তল্লাশি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। 

তবে প্রশাসনের এ নজরদারির কড়া সমালোচনা করছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত নজরদারির ফলে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং এতে নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠী বা অভিবাসীদের বাড়তি বৈষম্যের মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।