বৃদ্ধা জুলুশার স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে প্রতারকচক্র, বঞ্চিত সরকারি আবাসন প্রকল্প থেকে

আলমাস বেপারী, জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুরঃ
৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৩৪ পিএম
শেয়ার করুন:
বৃদ্ধা জুলুশার স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে প্রতারকচক্র, বঞ্চিত সরকারি আবাসন প্রকল্প থেকে

৭০ বছর বয়সী জুলুশা বেগম। পদ্মা সেতু বহুমুখী প্রকল্পে হারিয়েছেন জমি, গাছপালা আর ঘরবাড়ি। জমি ও গাছপালার ক্ষতিপূরনের বিল পেলেও ঘরবাড়ির অর্থ নিয়ে যায় প্রতারকচক্র। এতেই বঞ্চিত সরকারি আবাসন প্রকল্পের একটি আবাসিক প্লট বরাদ্দ থেকে। বর্তমানে থাকার জায়গাও নেই জুলুশার পরিবারের।

মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের চরচান্দ্রা মৌজার বাসিন্দা কাশেম খলিফার স্ত্রী জুলাশা বেগমের জমি অধিগ্রহন করে সরকার। ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরের ১নং এলএ কেসের মাধ্যমে তার বসতঘরের অধিগ্রহনের বিল তুলে নেয়া হলেও প্রথমে গোপন রাখে সিন্ডিকেটের হোতারা। পরে জুলুশা বেগমের সন্তানরা সেতু মন্ত্রনালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করলে কয়েক বছর পর সেখানকার নথি থেকে জানতে পারেন তার মায়ের নামে ঘরবাড়ির বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এরপর সেই নথিপত্র নিয়ে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের ভুমি অধিগ্রহণ শাখায় আসলে পরিস্কার হয় জালিয়াতি করে বিল উত্তোলনের বিষয়টি।

জুলুশার পরিবারের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের ভুমি অধিগ্রহণ শাখার ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের তৎকালীন ইউপি সদস্য সিরাজ ফকির তুলে নেয় ঘরবাড়ির ক্ষতিপূরনের অর্থ। নিজ নামে ঘরবাড়ির ক্ষতিপূরনের বিল উত্তোলন না করতে পারায় সরকারি আবাসন প্রকল্প থেকে বঞ্চিত এই বৃদ্ধার পরিবার। আইনীভাবে মোকাবেলা করতেও দেয়নি প্রভাবশালী প্রতারকচক্র। এখনো ভয় আর আতঙ্ক কাটেনি জুলুশা বেগমের পরিবারের।

ক্ষতিগ্রস্থ জুলুশা বেগম বলেন, ‘তৎকালীন ইউপি মেম্বার সিরাজ ফকির এই পুরো ঘটনার সাথে জড়িত। তার জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্প থেকে আমি বঞ্চিত হয়েছি। এ ঘটনায় সিরাজ মেম্বারের  বিচার হওয়া উচিৎ।’

জুলুশার স্বামী কাশেম খলিফা বলেন, ‘আমার স্ত্রীর নামে ঘরবাড়ির বিল সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজ ফকির তুলে নেয়। ক্ষতিপূরনের তালিকায় জুলুশার নাম না থাকায় সরকারি আবাসনের প্লট জোটেনি। আমাদের বড় একটি ক্ষতি করেছে প্রতারকচক্র। আমরা মামলা করতেও পারিনি। আমাদের ভয় দেখিয়ে আইনের কাছেও যেতে দেয়নি প্রভাবশালীরা।’

জুলুশার ছেলে শাহীন খলিফা বলেন, ‘বার বার ডিসি অফিসে গিলেও বিল উত্তোলনের বিষয়ে আমরা জানতে পারিনি। পরে অনেক টাকা খরচ করে সেতু মন্ত্রনালয়ে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারি। শেষমেশ জানাজানি হলে সিরাজ মেম্বার আমাদের কিছু টাকা দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। আমরা এই ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। সিরাজসহ যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিচারের পাশাপাশি আমার মায়ের জন্য সরকারি একটি প্লট বরাদ্দের দাবী করছি।’

এ ব্যাপারে প্রথমে গণমাধ্যমে কথা বলতে বাধা সৃষ্টি করেন অভিযুক্ত সিরাজ ফকিরের দুই ছেলে জুবায়ের ও জুনায়েত। পরে প্রশ্নের মুখে কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ‘আবুল হাশেম ফকিরের কান্দি’ এলাকার কাদির ফকিরের ছেলে অভিযুক্ত সিরাজ ফকির দাবি করেন, জুলুশা বেগমের নিবন্ধিনবিহীন ক্ষমতাপত্র পেয়ে জেলা প্রশাসকের এলএ শাখা থেকে তিনি ঘরবাড়ির বিল উত্তোলন করেন। পরে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে ক্ষতিপূরনের টাকা দিয়ে দেন ভুক্তভোগীর পরিবারের হাতে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘ যেহেতু এটি একটি পুরনো ঘটনা। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে জেলা প্রশাসন।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।