জলঢাকায় পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ
১ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:৩৩ পিএম
শেয়ার করুন:
জলঢাকায় পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নীলফামারীর জলঢাকায় পুকুর থেকে খাতিজা আক্তার (৬) নামের এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার বাবা ও মায়ের পরিবারের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। বাবার পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড; অন্যদিকে মায়ের পরিবারের দাবি, পুকুরের পানিতে ডুবেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নালার পাড় গ্রামের এনামুল হকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে শিশুটির মা রেজিনা বেগমকে (২৮) কাঁদতে কাঁদতে সন্তানকে খুঁজতে দেখেন প্রতিবেশীরা। বাড়ির আশপাশে খুঁজে না পেয়ে স্থানীয়দের পরামর্শে পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফেরদৌস আলম (১৮) জানান, খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তিনি ও রিপন নামের আরেকজন পুকুরে নেমে প্রায় ১৫–২০ মিনিটের চেষ্টায় শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয় বাহারাম উদ্দীন (৫২) জানান, উদ্ধারের পর শিশুটির পেট থেকে পানি বের করার চেষ্টা করা হলেও দেখা যায় সে আগেই মারা গেছে।

এদিকে শিশুটির বাবার পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। শিশুটির চাচা নজরুল ইসলাম (৩৮) অভিযোগ করে বলেন, "দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস ধরে রেজিনা বেগম মেয়েকে নিয়ে পিত্রালয়ে বসবাস করছিলেন। এ নিয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগও রয়েছে। আমাদের পরিবারকে ফাঁসানোর জন্য রেজিনা বেগম ও তাঁর পরিবারের লোকজন শিশুটিকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।" তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিশুটির মা রেজিনা বেগম বলেন, "আমি মেয়ের জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাজে বাইরে গিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুর থেকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।" 

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। শিশুটির বাবা ঢাকা থেকে আসার পর তাঁর বক্তব্য ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।