কিশোরগঞ্জে বিরল রোগে আক্রান্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সিরাতুল জান্নাত

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ
Mar 6, 2026 - 21:20
Mar 6, 2026 - 21:21
কিশোরগঞ্জে বিরল রোগে আক্রান্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সিরাতুল জান্নাত

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গেরগাড়ী পীরপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবার শাহ আলম ও সুলতানা রাজিয়া দম্পতির মেয়ে সিরাতুল জান্নাত। সে স্থানীয় সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। একসময় নিয়মিত স্কুলে যাওয়া ও পড়াশোনায় ভালো ফল করাই ছিল তার নিত্যদিনের জীবন। কিন্তু প্রায় এক বছর আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে। আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত চিকিৎসা চালানো সম্ভব হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, সিরাতুল জান্নাত বিরল রোগ ‘ক্যারোলী সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেখানে চিকিৎসা ব্যয় হতে পারে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।

রিকশাচালক বাবা শাহ আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,অভাব-অনটনের সংসার। রিকশা চালিয়ে কোনোরকমে পরিবারের ভরণপোষণ চালাই। স্বপ্ন ছিল মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করবো। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই স্বপ্নে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। টাকার অভাবে থমকে গেছে ৮ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী সিরাতুল জান্নাতের জীবন বাঁচানোর চিকিৎসা।আর মেয়েকে বাঁচাতে যা ছিল সব বিক্রি করেছি। বাবার কাছ থেকে পাওয়া দুই শতক জমির ওপর থাকা টিনের ঘরটাও বিক্রি করে দিয়েছি। এখন মাথা গোঁজার মতো জায়গাও নেই। ঠিকমতো খেতেও পারি না। এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব। সমাজের সবাই একটু সাহায্য করলে হয়তো আমার মেয়েটা বেঁচে যেতে পারে।”

মা সুলতানা রাজিয়া বলেন, “আমার মেয়েটা খুব মেধাবী ছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে আজ বিছানায় পড়ে আছে। প্রায় এক মাস ধরে কোনো চিকিৎসা নেই। বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় সংযোগও কেটে দিয়েছে। অন্ধকার ঘরে মেয়েকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমরা আর পারছি না।”

সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সালমা বেগম বলেন, “সিরাত খুব ভালো ছাত্রী ছিল। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সে আর স্কুলে আসতে পারছে না। আমরা শিক্ষকরা যতটুকু সম্ভব সহায়তা করেছি। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো মেয়েটি নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে।”

কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, সরকারিভাবে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবেও সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার চেষ্টা করা হবে।

বর্তমানে প্রায় এক মাস ধরে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই শয্যাশায়ী হয়ে দিন কাটছে ছোট্ট সিরাতুল জান্নাতের। অসহায় বাবা-মায়ের একটাই আকুতি—মানবিক ও সহৃদয় মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আবারও স্কুলের বই হাতে নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে তাদের আদরের মেয়েটি।

সহযোগিতা ও যোগাযোগ:

মোবাইল: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮

বিকাশ: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮

নগদ: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮

রকেট: ০১৭৫৭৮৬৭৮৫৮ (ব্যক্তিগত নম্বর)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow