নীলফামারীর জলঢাকায় অতিরিক্ত টোল আদায়: ইজারাদারকে জরিমানা
নীলফামারীর জলঢাকায় পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে জমে ওঠা পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অনিয়মের দায়ে উপজেলার মিরগঞ্জ পশুর হাটের ইজারাদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করেছেন প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ মে) উপজেলার মিরগঞ্জ ইউনিয়নের পশুর হাটে এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে মিরগঞ্জ হাটটি প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি গরু বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা টোল আদায়ের নিয়ম রয়েছে। অথচ ইজারাদার নিয়ম উপেক্ষা করে ক্রেতাদের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। এছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো টোল নেওয়ার বিধান না থাকলেও, তাদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
হাট করতে আসা ক্রেতা আব্দুর রশিদ জানান, তিনি ৬৫ হাজার ৫০০ টাকায় একটি গরু কিনেছেন। কিন্তু হাট কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক তার কাছ থেকে ৮০০ টাকা টোল আদায় করেছে। একই অভিযোগ করেন আরেক ক্রেতা দিপক। তিনি জানান, তার কাছ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়া হলেও রশিদে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
অতিরিক্ত টোল আদায়ের খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে হাটে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় হাট ইজারাদারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার জন্য ইজারাদারকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হাটের দায়িত্বে থাকা গোলনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জহুরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযান পরিচালনা শেষে ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকারি নিয়ম অমান্য করে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রমাণ পাওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
What's Your Reaction?
হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ