ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে পদত্যাগের কারণ জানালেন জুমা

অনলাইন ডেস্কঃ
১১ জুলাই, ২০২৬ ১:১২ পিএম
শেয়ার করুন:
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে পদত্যাগের কারণ জানালেন জুমা

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, সাবেক সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা সংগঠনটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

মূল সংগঠনে সক্রিয় থাকার ঘোষণা
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুমা স্পষ্ট করে বলেন, "আমি কেবল ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। তবে আমাদের মূল প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এ আমরা এখনো আগের মতোই সক্রিয় রয়েছি।" 

ট্রাস্ট গঠন ও উত্তরাধিকারীদের দাবি
সংগঠনটির ভবিষ্যৎ ও এর পেছনে থাকা আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে জুমা বলেন, প্রথম থেকেই লক্ষ্য ছিল ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারটি জনগণের অনুদানে পরিচালিত হবে এবং এটিকে একটি ট্রাস্ট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কিন্তু এর অন্যতম উদ্যোক্তা শহীদ শরীফ উসমান হাদী ট্রাস্ট গঠনের কাজ সম্পন্ন করার আগেই শাহাদাতবরণ করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুর পর তার পরিবারের উত্তরাধিকারীরা এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্ব দাবি করেন।

জুমা বলেন, "শহীদ উসমান হাদী ভাইয়ের মৃত্যুর পরও আমরা জনগণের আমানত হিসেবে এই কালচারাল সেন্টারের কার্যক্রম সাধ্যমতো সচল রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপপ্রচার শুরু হয় এবং একপর্যায়ে আইনি জটিলতাও তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে আমাদের কাছে শহীদ উসমান হাদীর সম্মান রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় কর্তব্য বলে মনে হয়েছে। তাই তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জায়গা থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, প্রতিষ্ঠানটি তার দাবিকারক আত্মীয়স্বজনদের হাতেই হস্তান্তর করা উত্তম।"

ফেসবুক পোস্টে উদ্বেগের কথা প্রকাশ
এর আগে গত ৮ জুলাই এক ফেসবুক স্ট্যাটাসেও জুমা তার পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছিলেন। সেখানে তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নানা রাজনৈতিক প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও তিনি বাংলাদেশপন্থি সুস্থ সংস্কৃতির প্রসারে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনটি মূল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রবেশ করতে শুরু করলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জুমা আরও উল্লেখ করেন, শহীদ উসমান হাদীর উত্তরাধিকারসংক্রান্ত জটিলতা প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহলে অসম্মানজনক আলোচনা ও অপপ্রচার ছড়াতে শুরু করে, যা তার ওপর ব্যক্তিগতভাবে মানসিক চাপ তৈরি করেছিল। ফলে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারটি দাবিদারদের নিকট হস্তান্তরের বিষয়ে তারা একমত হন।

আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি
আর্থিক হিসাবের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জুমা জানান, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের আগে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলো ইতিমধ্যে ফ্রিজ করা হয়েছে। তবে তার শাহাদাতের পর জুমার দায়িত্বকালীন সময়ে কালচারাল সেন্টারের যাবতীয় আর্থিক হিসাব-নিকাশ খুব দ্রুতই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। 

জুমা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে লড়াই থেমে গেছে। ইনকিলাবের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করে তারা অন্য কোনো মাধ্যমে বা ভিন্ন কোনো প্ল্যাটফর্মে সুস্থ সংস্কৃতির এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।