সেমিফাইনালে এবার এমবাপ্পে-ইয়ামালের মহারণ

অনলাইন ডেস্কঃ
১১ জুলাই, ২০২৬ ২:২১ পিএম
শেয়ার করুন:
সেমিফাইনালে এবার এমবাপ্পে-ইয়ামালের মহারণ

ইউরোপীয় ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স ও স্পেন এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। আগামী বুধবার দিবাগত রাত ১টায় (বাংলাদেশ সময়) ডালাস স্টেডিয়ামে শুরু হবে ফাইনালের টিকিট পাওয়ার এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই। এই ম্যাচের জয়ী দল ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড-নরওয়ে এবং আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড অংশের বিজয়ীদের।

কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। অন্যদিকে, বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে বিদায় করে দিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে এটি মাত্র দ্বিতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল।

অতীত পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ইতিহাস
সাম্প্রতিক ইতিহাসে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের আধিপত্য বেশ স্পষ্ট। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্স শুরুতে এগিয়ে গেলেও লামিন ইয়ামাল ও দানি ওলমোর গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। এরপর ২০২৫ নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ৯ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে স্পেন ৫-৪ ব্যবধানে পরাজিত করে ফরাসিদের, যেখানে ইয়ামাল করেছিলেন জোড়া গোল আর ফ্রান্সের হয়ে পেনাল্টি থেকে গোল পান এমবাপ্পে।

তবে বড় ম্যাচে স্পেনকে হারানোর সুবর্ণ স্মৃতিও রয়েছে ফ্রান্সের। ২০২১ সালের নেশনস লিগ ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পের করা জয়সূচক গোলে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফরাসিরা। আর বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখায় ২০০৬ সালের শেষ ষোলোতে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবার দেখা হচ্ছে এই দুই পরাশক্তির।

আকর্ষণের কেন্দ্রে এমবাপ্পে ও ইয়ামাল
এই ম্যাচের মূল আলো থাকবে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লামিন ইয়ামালের ওপর। মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার পরও দুর্দান্ত এক গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দিয়েছিলেন বর্তমান অধিনায়ক এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৮ গোল করে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল সংখ্যা এখন ২০, যা মেসির সর্বকালের সর্বোচ্চ ২১ গোলের রেকর্ডের খুব কাছে। মরক্কোর বিপক্ষে কিছুটা গোড়ালির চোট পেলেও ফরাসি শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি স্পেনের বিপক্ষে খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

অন্যদিকে, স্পেনের তরুণ ফুটবল বিস্ময় লামিন ইয়ামাল বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল না পেলেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ম্যাচসেরা হয়েছেন। সেমিফাইনালের আগের দিন ১৯ বছরে পা রাখবেন ইয়ামাল। জন্মদিনের পর তাঁর প্রথম ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে অনূর্ধ্ব-১৮ খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ ৬টি ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছেন বার্সেলোনার এই উইঙ্গার।

মাঠের রণকৌশল
দুই দলের সাম্প্রতিক পথচলাতেও রয়েছে ভিন্ন ঘরানার শক্তির ছাপ। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের খেলা ৬ ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে ফ্রান্স। বিশেষ করে নকআউট পর্বে কানাডা, প্যারাগুয়ে ও মরক্কোর মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোনো গোলই হজম করেনি তাদের রক্ষণভাগ। গতিময় ফুটবল এবং দ্রুত প্রতি-আক্রমণই দেশমের দলের বড় শক্তি।

অপরদিকে, ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও পরবর্তী টানা ৫ ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে শুরু করে টানা ৩৭টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থাকার দুর্দান্ত রেকর্ড রয়েছে দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখা এবং মাঝমাঠের আধিপত্য ধরে রাখাই স্পেনের মূল কৌশল। 

রদ্রি ও পেদ্রিদের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গতিশীল কাউন্টার অ্যাটাকের এই দ্বৈরথই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। একদিকে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালের হাতছানি, অন্যদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন—মাঝখানে ফাইনালের একটি টিকিট এবং ফুটবলবিশ্বের দুই সেরা তারকার মর্যাদার লড়াই।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।