এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর অনাবাদি চরাঞ্চলে চিনাবাদাম চাষ করে এবারও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। একসময়ের পতিত ও ধু-ধু বালুচরে উৎপাদিত সোনালী ফসল চিনাবাদাম ঘরে তুলতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে চরাঞ্চলে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ চাষি তাদের ফসল ঘরে তোলার কাজ শেষ করেছেন। আর যারা বাকি আছেন, তারা ক্ষেত থেকে বাদাম তোলা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। লাভজনক এই অর্থকরী ফসল চাষ করে চরের অনেক পরিবারের সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, মরিচা ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ৪৫০ হেক্টর জমিতে চিনাবাদামের চাষ হয়েছে। তবে চরে অন্যান্য ফসলের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার বাদাম চাষের পরিমাণ প্রায় ৩০০ হেক্টর কমেছে। একসময় পদ্মার বুকে জেগে ওঠা এসব বালুচর অনাবাদি পড়ে থাকত, যা কৃষকদের কোনো কাজেই আসত না। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এসব চরে চিনাবাদাম চাষে দারুণ সাফল্য মেলায় প্রতি বছরই কৃষকদের মাঝে এই ফসল চাষের আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম চাষে খরচ হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘায় ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৬ থেকে ৮ মণ। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বাদাম ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা খুচরা পর্যায়ে আরও বেশি। স্বল্প সময়ে ও সামান্য খরচে দ্বিগুণ-ত্রিগুণ লাভ হওয়ায় বাদাম চাষে চরম খুশি চরের কৃষকেরা।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাদাম চাষী সোহেল আহমেদ আলম বলেন, "আমি প্রতি বছরই বাদামের আবাদ করি। চরের বালু মাটিতে মাত্র তিন মাসে এই ফসল ঘরে তোলা যায় বলে এটি চাষ করা খুবই সহজ। এবারও বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৮ মণ হারে ফলন পেয়েছি। সব খরচ বাদ দিয়ে এবার বেশ ভালো লাভ হয়েছে।"
বাদাম চাষ কেবল কৃষকদের ভাগ্যই বদলায়নি, চরাঞ্চলের দিনমজুরদের জন্যও সৃষ্টি করেছে বাড়তি আয়ের পথ। ক্ষেত থেকে বাদাম তোলা, পরিষ্কার ও ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজে পুরুষদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় নারী ও শিশুরাও। এ কাজে নিয়োজিত মৌসুমী শ্রমিকেরা প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। স্থানীয় দিনমজুর বিল্লাল হোসেন বলেন, "এবার বাদাম তোলার মৌসুমে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছি। ঘরের নারী ও শিশুরাও এই কাজে অংশ নেওয়ায় অনেক পরিবারের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।"
চরাঞ্চলে বাদাম চাষের এই সাফল্য প্রসঙ্গে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেহানা পারভীন বলেন, "সরকারি প্রণোদনা, নতুন জাতের বীজ সরবরাহ এবং কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার ফলেই চরাঞ্চলে এবার বাদামের ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘায় কৃষকেরা ৬ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত উৎপাদন পেয়েছেন এবং বাজারে দাম ভালো থাকায় তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন।"
তিনি আরও জানান, চরাঞ্চলে অন্যান্য ফসলের চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার বাদাম চাষের পরিমাণ কিছুটা কমলেও, ফলন ও লাভের দিক থেকে কৃষকেরা বেশ সফল। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চরের চাষিদের সব ধরণের কারিগরি সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত থাকবে।
আগস্ট ৯, ২০২৫
অক্টোবর ২৯, ২০২৫
জুন ১৩, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
আন্তর্জাতিক | ৮ জুলাই, ২০২৬
কক্সবাজার | ৮ জুলাই, ২০২৬
রাজনীতি | ৮ জুলাই, ২০২৬
রাজনীতি | ৮ জুলাই, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৮ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।