জুলাই শহীদ ছেলের অনুদানের টাকায় বাবার দ্বিতীয় বিয়ে, সমালোচনার ঝড়

অনলাইন ডেস্কঃ
২৯ জুন, ২০২৬ ১০:২৯ এএম
শেয়ার করুন:
জুলাই শহীদ ছেলের অনুদানের টাকায় বাবার দ্বিতীয় বিয়ে, সমালোচনার ঝড়

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শহীদ ছেলের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কিনে তিনি এই বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আব্দুল মতিন।

ঘটনার পটভূমি ও অভিযোগসমূহ
গত বছরের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। পরে ২০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। শাহরিয়ার ছিলেন ঢাকার মতিঝিলে ‘আলফা গ্রুপ’-এর একটি শাখায় কর্মরত সেলস ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৫০) এবং মমতাজ বেগম (৪৫) দম্পতির একমাত্র ছেলে। এছাড়া এই দম্পতির ১০ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছরের ২৯ মে আব্দুল মতিন ৭ লাখ টাকার কাবিন এবং প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই খবর জানার পর গত ২ জুন প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম ক্ষোভে ও দুঃখে মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, তবে পরিবারের সদস্যরা সময়মতো তা প্রতিহত করেন।

শহীদ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগমের অভিযোগ, সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তার অনুমতি ছাড়া আব্দুল মতিন এই বিয়ে করেছেন। তিনি বলেন, "আমার স্বামীর নিজের উপার্জনে এত দামি স্বর্ণালংকার কেনা সম্ভব নয়। ছেলের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই সরকারের দেওয়া অনুদানের টাকায় তিনি এই বিয়ে করেছেন।" মমতাজ বেগম আরও অভিযোগ করেন, শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য আব্দুল মতিন তার স্বাক্ষর জাল করারও চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া ছেলের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টাও করেছেন তিনি।

বাবার আত্মপক্ষ সমর্থন
সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, "বংশ রক্ষা এবং মায়ের বিশেষ অনুরোধে আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। বিয়ের আগে আমার প্রথম স্ত্রীও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন, যদিও এখন তিনি তা অস্বীকার করছেন।" নিজের আর্থিক সক্ষমতা দাবি করে তিনি বলেন, "আমি আলফা গ্রুপের মতিঝিল শাখায় সেলস ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করি। নিজের উপার্জনের টাকা দিয়েই বিয়ে করেছি, ছেলের অনুদানের টাকা ব্যবহারের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।" দ্বিতীয় বিয়ের পর তিনি প্রথম স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হননি বলে দাবি করেন এবং বর্তমানে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানান।

ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

  • আব্দুল্লাহ আল নাকিব (সভাপতি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ময়মনসিংহ জেলা) মন্তব্য করেন যে, আইন ও ধর্ম অনুযায়ী একাধিক বিয়ে করার সুযোগ থাকলেও শহীদদের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ করা থেকে সবার বিরত থাকা উচিত ছিল।
    আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (আহ্বায়ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ময়মনসিংহ) বলেন, "একজন জুলাই শহীদের বাবার এই সিদ্ধান্ত আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শহীদ পরিবারের প্রতি মানুষের যে আবেগ ও সম্মান রয়েছে, এই আচরণ তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।"
    আল নূর আয়াস (সমন্বয়কারী, শহীদ ও আহত সেল) বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এমন সিদ্ধান্ত শহীদ পরিবারের মর্যাদা ও মানুষের অনুভূতির প্রতি আঘাতস্বরূপ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।