ইরানের হামলার ভয়ে গোপনে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের ঘটনা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্কঃ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৫৫ পিএম
শেয়ার করুন:
ইরানের হামলার ভয়ে গোপনে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের ঘটনা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ছাড়ার সময় সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় গোপনে উড়োজাহাজ বদলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এই গোপন অভিযানের কথা নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি। ট্রাম্প জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও ইউএস সিক্রেট সার্ভিস এবং সামরিক বাহিনীর পরামর্শেই সুরক্ষার স্বার্থে তাঁকে এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে। সেখানে গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প নির্ধারিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে প্রবেশ করেন। তবে বিমানের ভেতরে যাওয়ার পর এক সুচতুর গোপন অভিযানের মাধ্যমে একটি খাবারের কনটেইনারের (ক্যাটারিং ট্রাক) আড়ালে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে ‘সি-৩২এ’ নামের একটি অপেক্ষাকৃত ছোট সামরিক বিমানে তোলা হয়, যা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত থাকে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্মেলনস্থলের কাছাকাছি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ এক ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। বিমান লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালাতে পারে—এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকি শনাক্ত হওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

এই বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশই আমাকে মেনে চলতে হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এমন হুমকি প্রায়ই আসে এবং তাদের মূল লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি আমি।"

সফরসঙ্গী ও সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করার কৌশল

গোপনীয়তা বজায় রাখতে ট্রাম্পকে বহনকারী ‘সি-৩২এ’ বিমানটি আসল কলসাইন বাদ দিয়ে ‘রিচ ১৮’ নাম ব্যবহার করে। অন্যদিকে সাংবাদিকদের বহনকারী মূল বিমানটি ‘এএফ১’ কলসাইনেই যাত্রা অব্যাহত রাখে, যাতে বাইরে থেকে মনে হয় প্রেসিডেন্ট ওই বিমানেই আছেন। 

এমনকি মূল বিমানে ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অবস্থান করছিলেন। বিমানে থাকা সাংবাদিকদের বাইরের দৃশ্য দেখতে না দেওয়ার জন্য জানালার পর্দা নামিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে এই সম্ভাব্য হামলা বা প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিমানে থাকা সাংবাদিক কিংবা হোয়াইট হাউসের অধিকাংশ কর্মকর্তাই তখন কিছুই জানতেন না।

পরবর্তীকালে বিকল্প বিমানে করে ট্রাম্প প্রথমে যুক্তরাজ্যে যান এবং সেখান থেকে অন্য আরেকটি বিমানে ওয়াশিংটনে ফেরেন।

সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনা

প্রকৃত ঝুঁকি গোপন রেখে সংবাদকর্মীদের ট্রাম্পের মূল বিমানে রেখে আসার ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)। সংগঠনটি জানিয়েছে, জীবন সংশয়ের মতো বড় কোনো নিরাপত্তা হুমকি থাকলে ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত ছিল সাংবাদিকদের তা জানানো, যাতে তারা নিজ নিজ নিরাপত্তার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।