বাংলাদেশসহ ১৬ দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য তদন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
Mar 12, 2026 - 13:19
বাংলাদেশসহ ১৬ দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য তদন্ত

ক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আবারও বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের উৎপাদন ও শিল্প খাতের ওপর নতুন করে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ওই দেশগুলোর পণ্যের ওপর নতুন করে বাড়তি আমদানি শুল্ক আরোপের বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং কর্মসংস্থান রক্ষার কৌশল গ্রহণ করেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের একটি বড় সিদ্ধান্ত দেশটির সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করে দিয়েছিলেন। আদালত জানিয়েছিলেন, ‘অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা’র দোহাই দিয়ে ওই শুল্ক আরোপ করা আইনত বৈধ ছিল না। সেই রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব আহরণের পথ বন্ধ হয়ে যায়। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং মার্কিন উৎপাদন খাতকে বাড়তি সুরক্ষা দিতে ট্রাম্প প্রশাসন এবার নতুন আইনি পথে এগোচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ‘সেকশন ৩০১’-এর আওতায় এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো—বিদেশি শিল্প খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা আছে কি না, সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো তাদের কোম্পানিগুলোকে অন্যায্য সরকারি ভর্তুকি দিচ্ছে কি না এবং শ্রমিকদের মজুরি দমন বা অন্য কোনো অন্যায্য নীতি ব্যবহার করে মার্কিন বাজারে সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা।

এই তদন্তের আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান এবং মেক্সিকোর মতো দেশগুলো রয়েছে। পাশাপাশি ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে উৎপাদিত পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে আরেকটি আলাদা তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ট্রাম্প প্রশাসন এই তদন্ত দ্রুত শেষ করতে চায়, কারণ ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ অনুযায়ী বর্তমানে কার্যকর থাকা শুল্কগুলোর মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হয়ে যাবে। এর আগে ট্রাম্প ১০ শতাংশ শুল্ককে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন। প্রশাসন সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করছে যাতে যত দ্রুত সম্ভব নতুন শুল্কের রূপরেখা চূড়ান্ত করা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে আবারও বাণিজ্য উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দাবি করেছেন যে এই তদন্তের সঙ্গে পুরনো বাণিজ্য চুক্তির কোনো বিরোধ নেই, তবে নতুন শুল্ক আরোপ হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে করা পূর্বের সমঝোতাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই বাণিজ্য তদন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow