সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
আজ ১০ জিলহজ, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ আদায়, পশু কুরবানি এবং হজের শেষদিকের আনুষ্ঠানিকতা পালনের মধ্য দিয়ে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় এই উৎসব উদযাপন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
আরাফাত ময়দানে অবস্থান ও খুতবা
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরাম পরা হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির) ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।
হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের সীমানার ভেতরে অবস্থান করে নামাজ আদায়, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারের মাধ্যমে সময় কাটান। দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা প্রদান করেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় এই খুতবা সরাসরি অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য রক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মুজদালিফায় রাতযাপন ও মিনার আনুষ্ঠানিকতা
আরাফাত ময়দানে অবস্থান শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করেন। এরপর সূর্যাস্তের পর তারা রওনা হন মুজদালিফার উদ্দেশে। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করার পাশাপাশি মিনায় শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করেন হাজিরা।
আজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করার মধ্য দিয়ে হাজিদের ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। পাথর নিক্ষেপ শেষে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তারা পশু কুরবানি করবেন। এরপর মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন এবং পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ (তাওয়াফে জিয়ারত) ও সাফা-মারওয়া সাঈ করার মাধ্যমে হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।
উৎসবের আমেজ ও প্রবাসী জীবন
সৌদি আরব ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কেনাকাটাসহ ঈদের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মেতে উঠেছেন তারা।
সৌদি সরকারের বিশেষ ব্যবস্থাপনা
তীব্র গরমের মধ্যে হাজিদের স্বস্তি দিতে এবং হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হাজিদের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও যাতায়াত সহজ ও আরামদায়ক করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ