কালকিনিতে সহকারি শিক্ষকের ওপর হামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় পঙ্গুতে প্রেরণ

আলমাস বেপারী, কালকিনি প্রতিনিধি, মাদারীপুরঃ
৩ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩৬ পিএম
শেয়ার করুন:
কালকিনিতে সহকারি শিক্ষকের ওপর হামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় পঙ্গুতে প্রেরণ

মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই শিক্ষককে পাঠানো হয়েছে রাজধানী ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলার পশ্চিম আলীপুর এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত রাজন শিকদার কালকিনি উপজেলার ১৫৮নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও কালকিনি পৌরসভার দক্ষিন রাজদী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাজেদ শিকদারের ছেলে। অভিযুক্ত লিপি বেগম উপজেলার পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়নের চর আলীপুর গ্রামের শাহ আলম মোল্লার স্ত্রী ও ১৫৮নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

ভুক্তভোগী ও স্বজনরা জানায়, ১৫৮নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের সাথে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিফিন বিতরণ নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রাজন শিকদারের বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে প্রায়ই দুই শিক্ষকের মধ্যে তর্কবির্তক হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের অর্জিত কিছু টিফিন লিপি বেগম তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে আপত্তি জানায় অপর শিক্ষক রাজন। বিষয়টি নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরে বিদ্যালয় ছুটি শেষে ফেরার পথে পশ্চিম আলীপুরের খেয়াঘাট এলাকায় রাজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে লিপি বেগমের ভাই মিলন মোল্লার বিরুদ্ধে। পিটিয়ে ডান পা ভেঙ্গে দেয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। রাজনের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে গুরুতর অবস্থায় ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে প্রথমে ভর্তি করা হয় কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অবস্থার অবনতি হলে রাত ১২টার দিকে পাঠানো হয় রাজধানী ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। এই ঘটনার দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত লিপি বেগম। এদিকে ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী শিক্ষক রাজন শিকদারের অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রায়ই শিক্ষার্থীদের টিফিনের প্যাকেট বাড়িতে নিয়ে যায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক লিপি বেগম। এর প্রতিবাদ করায় আমার ওপর হামলা করে লিপির ভাই মিলন মোল্লা ও তার লোকজন। আমার এক পা ভেঙ্গে দিয়েছে। আরেক পা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ। আমি এই ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’

অভিযুক্ত লিপি বেগম বলেন, রাজন শিকদার আমার সাথে প্রায়ই খারাপ আচরণ করে। তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে বারান্দায় গিয়ে বসে থাকেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে তিনি আমার ওপর মাঝে মাঝে চড়াও হন। তার ওপর কে বা কাহারা হামলা চালিয়েছে আমার জানা নেই।’ 

এদিকে এ ব্যাপারে জানাতে মিলন মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইলে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।

মাদারীপুরের কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় দোষিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।