কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিকে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১১

রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৫:২২ পিএম
শেয়ার করুন:
কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিকে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১১

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে (বিএসপিআই) আধিপত্য বিস্তার ও আঞ্চলিক বিরোধকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ইনস্টিটিউট চত্বরে এই সংঘর্ষ ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কক্সবাজার জেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রীতি কর্মসূচির আয়োজন করে ‘কক্সবাজার ফোরাম’। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলার শিক্ষার্থী ও অটোমোবাইল বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র মো. জাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ও উত্তেজনাকর পোস্ট দেয়। 

পোস্টটি নজরে এলে কক্সবাজার ফোরামের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন সাঈদকে জানান। পরবর্তীতে ওই শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অন্য একটি পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবাদ জানায়। এ ঘটনার জেরে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে ‘ওটিজি-সিটিজি ফোরাম’ এবং ‘কক্সবাজার ফোরাম’-এর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন— ওটিজি-সিটিজি ফোরামের শিক্ষার্থী তারেক (২২), মুনতাকিম (২২), মেহেরাব হোসেন (২২), আদিত্য (২১), জাহিদ (২১), হাসান (২১) এবং কক্সবাজার ফোরামের তৌসিফ (১৯), আবিদ (২০) ও ইমরান (২০)। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, "সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখা হয়েছে।" 

এদিকে ঘটনার পর কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্যাম্পাসে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৫৭তম থেকে ৬০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত রয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত আঞ্চলিকতা ভিত্তিক বিরোধ, পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উসকানিমূলক পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশি সতর্কতা রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।