প্রেমে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর দাঁত ভেঙে দিল যুবক

অনলাইন ডেস্কঃ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৫ এএম
শেয়ার করুন:
প্রেমে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর দাঁত ভেঙে দিল যুবক

বরগুনার বেতাগীতে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং উত্ত্যক্তের অভিযোগ পুলিশকে জানানোর জেরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ফয়সাল মৃধা নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বখাটের হামলায় ওই শিক্ষার্থীর তিনটি দাঁত উপড়ে গেছে এবং দুটি দাঁত ভেঙে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবতলী এলাকার ফয়সাল মৃধা দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শিশুটি ঘরের বাইরে বের হলে ফয়সাল তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটির চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে এলে সে পালিয়ে যায়। 

ওই রাতেই শিক্ষার্থীর পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসা করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, সালিশের সময় পুলিশের কাছে অভিযোগ করার জেরে ভুক্তভোগী পরিবারকে ফল ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত ফয়সালের মা শিরিন বেগম। 

এর দুই দিন পর, সোমবার স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে গাবতলী এলাকায় ওই শিক্ষার্থীর পথরোধ করে ফয়সাল। সেখানে সে শিশুটিকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে শিশুটি। পরে সহপাঠীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকার বলেন, “সহপাঠীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাই।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস বলেন, “শনিবার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু ফয়সালের পরিবার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি এবং তারা হুমকি দিয়েছিল। একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

এ ঘটনায় সোমবার রাতেই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে বেতাগী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ফয়সালের মা মোসা. শিরিন বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। 

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, “এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামি ফয়সালের মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ফয়সাল মৃধাসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।