গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করছে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, স্টাফ রিপোর্টার, মাগুরাঃ
৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৪ এএম
শেয়ার করুন:
গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করছে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ, চর্চা এবং বিকাশে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ডুমুরশিয়া ডিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ১০৬তম ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা, মেলা ও বিচারগানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারে দেশব্যাপী বাউলগান, লোকসংগীত, জীবনমুখী যাত্রাপালা ও সার্কাসসহ বিভিন্ন দেশীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের সমৃদ্ধ গ্রামীণ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।”

তিনি আরও যোগ করেন, লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী লোকজ উৎসবগুলো কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এগুলো আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক সম্প্রীতি ও সামষ্টিক আনন্দের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব ঐতিহ্যকে চিরভাস্বর রাখতে স্থানীয় জনগণ, আয়োজক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ এবং মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রোকুনুজ্জামান খান, মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. মৈমুর আলী মৃধা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. এম. এম রইচ উদ্দীন, বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম এবং যুবদল নেতা মো. তরিকুল ইসলাম তারা ও তানজির রহমান সোহাগসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২২টি লাঠিখেলার দল অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দৃষ্টি কেড়েছেন শ্রীপুর উপজেলার সোনাইকুন্ডি গ্রামের জামাল সর্দার (৭৫), যিনি দীর্ঘ ৫৫ বছরের বেশি সময় ধরে লাঠিখেলার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া কামারখালী এলাকার গয়েশপুর গ্রামের নিহাল সর্দারও প্রায় অর্ধশতক ধরে এ খেলার চর্চা করে আসছেন। নিহাল সর্দার জানান, বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতেই জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি এ খেলা ধরে রেখেছেন।

ঐতিহ্যবাহী এই লাঠিখেলা ও মেলা দেখতে বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার দর্শকের ঢল নামে। খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর আমেজ ছড়িয়ে পড়ে এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে প্রাঙ্গণটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রামবাংলার বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে পরিচিত করাতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।