কাপ্তাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারে ভাবগাম্ভীর্যে কঠিন চীবর দান উদযাপিত

রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ
৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮ পিএম
শেয়ার করুন:
কাপ্তাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারে ভাবগাম্ভীর্যে কঠিন চীবর দান উদযাপিত

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী দানোত্তম শুভ ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্বশ্রেষ্ঠ এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে পুরো বিহার প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের দায়ক-দায়িকাবৃন্দের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা মাঙ্গলিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উৎসবের প্রথম পর্ব শুরু হয় সকাল থেকেই। দিনের প্রারম্ভিক কর্মসূচিতে ছিল জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বিশ্বশান্তি কামনায় বুদ্ধ বন্দনা, পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের আগমন, প্রব্রজ্যা-উপসম্পদা গ্রহণ এবং ভিক্ষু সংঘকে পিণ্ডদান। সকালে ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিহারের বিশিষ্ট উপাসক মংমেচিং পুরাতন কার্বারি। এরপর ভগবান বুদ্ধের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং ভিক্ষু সংঘকে পুষ্পবৃষ্টিতে বরণ করে নেন সমবেত পুণ্যার্থীরা।

বেলা ৩টায় দানোত্তম কঠিন চীবর দান ও মহতী ধর্মসভার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পাইন্দিতা থেরোর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডংনালা শাক্যনন্দ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সুরিয়া মহাথেরো। অনুষ্ঠানে প্রধান দায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য উথোয়াইমং মারমা এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক থোয়াইসাপ্রু চৌধুরী (রুবেল)।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাইখালী ৩২১ নম্বর মৌজার হেডম্যান উসুয়ে সুয়ে চৌধুরীসহ তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দায়ক-দায়িকাবৃন্দ।

দ্বিতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতায় পুণ্যার্থীরা পঞ্চশীল গ্রহণ করেন। এরপর ভিক্ষু সংঘের কণ্ঠে মৈত্রী সূত্রপাঠ, বৌদ্ধ দর্শনের ওপর ধর্মীয় দেশনা এবং পরম কাঙ্ক্ষিত কঠিন চীবর উৎসর্গ করা হয়। এ সময় ঐতিহ্যবাহী কঠিন চীবর ও কল্পতরুসহ বিহার প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণকালে পুণ্যার্থীদের ভক্তিপূর্ণ ‘সাধু, সাধু, সাধু’ ধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, এবারের উৎসবে তিন পার্বত্য জেলার সর্বোচ্চ বর্ষাবাস (ওয়া) অধিষ্ঠানকারী পরম পূজনীয় প্রয়াত উপঞা কাওয়ি মহাথেরোর পুণ্যস্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ সংঘদান ও প্রব্রজ্যা-উপসম্পদা গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।

দিনব্যাপী এই মহতী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে সন্ধ্যায় সহস্র বাতি প্রজ্জ্বলন, ফানুস (আকাশ প্রদীপ) উড্ডয়ন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণসহ বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।