দৌলতপুরে গ্রামীণ মেলার আড়ালে জমজমাট জুয়ার আসর: সর্বস্ব হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ হারুন অর রশীদ
২ নভেম্বর, ২০২৬ ৭:৪৭ পিএম
শেয়ার করুন:
দৌলতপুরে গ্রামীণ মেলার আড়ালে জমজমাট জুয়ার আসর: সর্বস্ব হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্যের প্রতীক ‘গ্রামীণ মেলা’র আড়ালে রাতের আঁধারে বসছে জমজমাট জুয়ার আসর। বিনোদনের নামে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের পৃথক স্থানে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ। মেলায় ভাগ্য পরীক্ষার প্রলোভনে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই এমন কারবার চললেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার রিফাতপুর ইউনিয়নের ঝাউদহ বাবলুর বাজার এলাকা এবং খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজার সংলগ্ন একটি বাগানে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা মেলার পরিবেশ তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে চলে লাখ লাখ টাকার ওপেন জুয়ার কারবার। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নানা বয়সী মানুষ এসব আসরে ভিড় জমাচ্ছেন। বিনোদন কিংবা অল্প সময়ে বেশি টাকার লোভে পড়ে জুয়ার টেবিলে পকেটের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরছেন অনেকে।

পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অবক্ষয়
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দৌলতপুরে জুয়ার বিস্তার দিন দিন আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের দিনমজুর ও যুবসমাজ এর করাল গ্রাসে বিপথগামী হচ্ছে। সারাদিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে উপার্জিত টাকা জুয়ার পেছনে খুইয়ে ফেলায় বহু পরিবারে নেমে এসেছে চরম অন্ধকার। এর জেরে পারিবারিক কলহ, ঋণগ্রস্ততা এবং সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির তীব্র আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নেপথ্যে প্রভাবশালী চক্র, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন 
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র গ্রামীণ মেলার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এই রমরমা জুয়ার কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা বলে নির্বিঘ্নে এই অনৈতিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—মেলা পরিচালনার আদৌ কোনো বৈধ অনুমতি আছে কি না? অনুমতি থাকলেও রাতের আঁধারে দিনের পর দিন প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার জুয়া চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রশাসনের নজরদারিতে তা পড়ছে না কেন? 

সাঁড়াশি অভিযানের জোর দাবি  
মেলার আড়ালে চলা এই ধ্বংসাত্মক জুয়ার আসর অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন দৌলতপুরবাসী। রিফাতপুরের বাবলুর বাজার ও খলিশাকুন্ডির শ্যামপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে মেলা আয়োজনের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।