মানবিকতার অনন্য নজির: দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর গাড়িতে ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম

শৈহ্লাচিং মারমা, রুমা প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
২ নভেম্বর, ২০২৬ ১:১৩ পিএম
শেয়ার করুন:
মানবিকতার অনন্য নজির: দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর গাড়িতে ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে জন্ম নিয়েছে এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। সেনাসদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় সংকট কাটিয়ে বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।

স্থানীয় ও সেনা সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর সকাল থেকেই রুমা উপজেলার প্রত্যন্ত সুংসুং পাড়ার বাসিন্দা লাল হুনের ৩০ বছর বয়সী সন্তানসম্ভবা স্ত্রী তীব্র প্রসববেদনায় ভুগছিলেন। দিনভর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসবের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সন্ধ্যার দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটে। আশপাশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় প্রসূতির জীবন রক্ষায় সুংসুং পাড়ার কারবারী (পাড়া প্রধান) দ্রুত নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে গিয়ে জরুরি সহায়তার আবেদন জানান।

পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ক্যাম্প কমান্ডার ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের (দি ম্যাজেস্টিক টাইগার্স) ক্যাপ্টেন ইনকিয়াতের নেতৃত্বে একটি সেনাদল দুটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে কালবিলম্ব না করে প্রসূতিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে। এরপর ওই পাহাড়ি মাকে নিয়ে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সেনাদলটি। 

পথিমধ্যে রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে গাড়িটি মুনলাই পাড়ার কাছাকাছি পৌঁছালে প্রসূতির প্রসববেদনা আরও তীব্র রূপ নেয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত সময় না থাকায় সেনাসদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চলন্ত পিকআপ ভ্যানটিকে রাস্তার পাশে থামিয়ে একটি নিরাপদ সাময়িক প্রসূতি কক্ষে রূপান্তর করেন। সেখানে সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় ধাত্রীর সহায়তায় গাড়ির ভেতরেই নিরাপদে পৃথিবীর আলো দেখে একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান।

সন্তান প্রসবের পরপরই সেনাসদস্যরা মা ও নবজাতককে নিরাপদে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেন যে, মা ও নবজাতক দুজনই পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত ও সুস্থ আছেন।

দুর্গম পাহাড়ে সেনাসদস্যদের এমন সময়োপযোগী ও মানবিক ভূমিকায় নবজাতকের পরিবারসহ গোটা এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে। নবজাতকের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। 

স্থানীয়রা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো মানবিক সংকটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সৌহার্দ্য ও বিশ্বাসের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।