খালেদা জিয়া যে পত্রিকা জনসভায় তুলে ধরেছিলেন, তা ছিঁড়লেন রাশেদ: নাসীরুদ্দীন

অনলাইন ডেস্কঃ
১ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:৩৬ পিএম
শেয়ার করুন:
খালেদা জিয়া যে পত্রিকা জনসভায় তুলে ধরেছিলেন, তা ছিঁড়লেন রাশেদ: নাসীরুদ্দীন

২০১১ সালে এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সংবাদ তথ্যসূত্র হিসেবে জনগণের সামনে তুলে ধরেছিলেন, সেই পত্রিকাই আজ ছিঁড়ে ফেলেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান—এমন অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। 

ফেসবুক পোস্টে তিনি ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরের একটি রাজনৈতিক সমাবেশের স্মৃতিচারণ করে লেখেন, “ওই দিন বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জনসভায় ‘আমার দেশ’ পত্রিকার একটি খবর গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেছিলেন। অথচ আজ তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান সেই পত্রিকাই প্রকাশ্যে ছিঁড়ছেন। মায়ের হাতে ছিল সংবাদের সূত্র, আর ছেলের সহকারীর হাতে তা হলো ছেঁড়ার বস্তু! ক্ষমতা বদলালে সংবাদপত্রের কদরও কি এভাবে বদলে যায়?”

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শিষ্টাচারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “কোনো প্রতিবেদনে ভুল বা অসত্য তথ্য থাকলে তা তথ্য-প্রমাণ দিয়ে যৌক্তিকভাবে খণ্ডন করাই নিয়ম। প্রয়োজনে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু জনসমক্ষে কাগজ ছিঁড়লে সংবাদ বা অভিযোগ কোনোটিই মিথ্যা প্রমাণ হয় না।”

**ঘটনার প্রেক্ষাপট:**  
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত দুটি সংবাদের প্রতিবাদ জানাতে ফেসবুক লাইভে আসেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ‘আমার দেশ’ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়ে ফেলেন। তাঁর অভিযোগ, পত্রিকাটিতে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় ‘এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর পত্রিকাটির প্রথম পাতায় ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সহকারীরা কী করছেন’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। দুটি প্রতিবেদনেই রাশেদ খানের নাম ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

ফেসবুক লাইভে রাশেদ খান বলেন, ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে তাঁকে ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা হলেও তাঁর কর্মক্ষেত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানোকে গভীর ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন তিনি। 

রাশেদ খানের দাবি, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের কথিত গোপন বৈঠকের অভিযোগ তোলায় ‘আমার দেশ’ তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে প্রমাণ উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত চাইলে তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারে এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তারা তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।