১৩ পরীক্ষার্থীর ১১ জনই ফেল, কেন আলোচনায় ‘টিকটক কলেজ’?

অনলাইন ডেস্কঃ
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৪৮ পিএম
শেয়ার করুন:
১৩ পরীক্ষার্থীর ১১ জনই ফেল, কেন আলোচনায় ‘টিকটক কলেজ’?

মাদারীপুর সদর উপজেলার মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার ফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখা থেকে এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র দুজন; বাকি ১১ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এমন হতাশাজনক ফলাফলের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পাঠদান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যঙ্গ করে ‘টিকটক কলেজ’ বলে কটাক্ষ করছেন নেটিজেনরা।

শুরু থেকেই ফলাফল অসন্তোষজনক 
প্রতিষ্ঠান–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিন বিভাগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখা যাত্রা শুরু করে। তবে চালুর পর থেকেই এর একাডেমিক ফলাফল সন্তোষজনক ছিল না। আগের দুই বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এই ফল বিপর্যয় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। 

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ 
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজে নিয়মিত কোনো ক্লাস নেওয়া হতো না। সাদিয়া আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের আইসিটি ক্লাস প্রায় হতোই না। ক্লাসের জন্য শিক্ষকদের ডেকে আনতে হতো, কিন্তু এক শিক্ষক অন্য শিক্ষকের ওপর দায় চাপিয়ে এড়িয়ে যেতেন। প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বারবার জানিয়েও কোনো ফল মেলেনি। এমনকি ভর্তির সময় বিনা মূল্যে সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা কৌশলে অর্থ নেওয়া হয়েছে।”

শিক্ষকসংকট ও বিষয়ভিত্তিক পাঠদানের অভাব  
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তীব্র শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তদুপরি, শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বিবেচনা না করেই ক্লাস বণ্টন করা হতো। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষক জানান, “হিসাববিজ্ঞান ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষককে দিয়ে ইংরেজি বিষয়ের ক্লাস করানো হতো। শিক্ষকদের সময়মতো বেতনও দেওয়া হয় না। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে অধ্যক্ষ তাঁর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের ভয় দেখাতেন। ফলে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না।”

সামাজিক মাধ্যমে ‘টিকটক কলেজ’ ট্রল 
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা কলেজটির একাডেমিক মান ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যঙ্গাত্মকভাবে এটিকে ‘টিকটক কলেজ’ বলে অভিহিত করছেন। স্থানীয়দের মতে, পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা এবং সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অহেতুক মনোযোগের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি আজ এই হাস্যাস্পদ পরিস্থিতিতে পড়েছে।

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য
প্রতিষ্ঠানটির এমন বিপর্যয়ের বিষয়ে মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, “মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কী কারণে এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটল এবং পাঠদানে কী ধরনের গাফিলতি ছিল, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।