গাজীপুরে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, ২০ দিনে ১৩ জনের প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্কঃ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৭ এএম
শেয়ার করুন:
গাজীপুরে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, ২০ দিনে ১৩ জনের প্রাণহানি

গাজীপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ২০ দিনে জেলায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চার শতাধিক রোগী। মৃতদের মধ্যে অর্ধেকের কাছাকাছি—অর্থাৎ ছয়জনই গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় আক্রান্তদের বড় একটি অংশই গাজীপুর মহানগরী ও কালিয়াকৈর এলাকার। এছাড়া কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও শ্রীপুরেও ডেঙ্গুর বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে কিংবা করিডোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। 

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুস সালাম সরকার জানান, হাসপাতালে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীর এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, “মহানগর ও কালিয়াকৈরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। নমুনা পরীক্ষা যেমন বাড়ছে, তেমনি শনাক্তের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম না চালানো এবং বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ দিন পানি জমে থাকার কারণেই পরিস্থিতি এমন জটিল আকার ধারণ করেছে। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকরা। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে তারা দ্রুত কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক জানান, নিয়মিত মশার লার্ভা শনাক্তকরণ, প্রজননস্থল ধ্বংস এবং কার্যকর এলাকায় জৈব লার্ভিসাইড বিটিআই (BTI) প্রয়োগের মাধ্যমে মশার ঘনত্ব কমানোর কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সবকটি ওয়ার্ডেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারও জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ছিটানোর পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা। ফুলের টব, টায়ার, নির্মাণাধীন ভবন বা বাড়ির আশপাশে যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা এবং দিনে কিংবা রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।