নোয়াখালীতে ইটভাটার জন্য প্রবাসীর জমি দখলের চেষ্টা, পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
৩ নভেম্বর, ২০২৬ ৬:৫৯ পিএম
শেয়ার করুন:
নোয়াখালীতে ইটভাটার জন্য প্রবাসীর জমি দখলের চেষ্টা, পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক দুবাই প্রবাসীর বসতভিটা ইটভাটার জন্য জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ‘মোহাম্মদীয়া ব্রিকফিল্ড’-এর মালিক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও স্বজনদের হুমকি এবং নির্মাণাধীন ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইটভাটা মালিকের পক্ষ নিয়ে জমি বন্ধক দিতে চাপ প্রয়োগ ও মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কোম্পানীগঞ্জ থানার তিন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী আব্দুল গোফরানের স্ত্রী বিলকায়েছ আরা বেগম ও তাঁর ভাই নূর হোসেন মানিক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল গোফরানের কেনা বসতভিটার জমিটি দখল করে নিজের ইটভাটা সম্প্রসারণ করতে চান জাকির হোসেন। জমিটি তাঁর কাছে বিক্রি কিংবা বন্ধক না দিলে পরিবারটিকে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলেও দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে জাকিরের লোকজন গোফরানের জমির সীমানায় থাকা টিনের বেড়া ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পায়। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর রাতে এসআই নজরুল ইসলাম ভুক্তভোগীদের থানায় ডেকে নিয়ে জমিটি জাকিরের কাছে বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তারা তাতে রাজি হননি। 

পরিবারটির অভিযোগ, এর চার দিন পর ১৬ অক্টোবর স্বামীর কেনা জমিতে ২১ ফুট বাই ১৬ ফুটের একটি টিন ও কাঠের দোচালা ঘর নির্মাণ শুরু করেন বিলকায়েছ আরা। তখন কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই নজরুল, এসআই সুমন ও এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে জাকিরের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে জমিটি বন্ধক দিতে ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যথায় তাঁদের বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে বিলকায়েছ আরা জানান, পুলিশের হুমকির মুখে তারা কাজ বন্ধ করে চলে যাওয়ার পর ওই দিন রাতেই জাকিরের লোকজন নির্মাণাধীন ঘর ও সীমানাপ্রাচীর গুঁড়িয়ে দেয়। এতে তাঁদের প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনার পর দেশে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার না পেয়ে গত ২৬ অক্টোবর দুবাই দূতাবাসের মাধ্যমে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠান প্রবাসী আব্দুল গোফরান। এর মধ্যেই গত ৩১ অক্টোবর বিকেলে জাকিরের লোকজন ভাঙচুর করা ঘর ও প্রাচীরের অবশিষ্ট কাঠ-টিন লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি ও পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা পরিচালনা করছেন জাকির হোসেন। সেখানে শ্রমিকদের আশ্রয় দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করানো হয়। 

তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেন বলেন, “ইটভাটার ভেতরে প্রবাসীর ৯ শতাংশ জমি পড়েছে, যার ওপর আমার মাটির স্তূপ রয়েছে। আমি তাঁদের জমিটি বিক্রি করে দিতে বলেছিলাম, কিন্তু তাঁরা রাজি হননি। পরে আমার রাখা মাটি ও ইটের খোয়া সরাতে গেলে তাঁরা বাধা দেন এবং সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।”

অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। উভয় পক্ষকে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কাউকে চাপ বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।”

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান জানান, “আমি থানায় নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।