শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে জাতীয় যুব পুরস্কার পেলেন পিরোজপুরের শিরিন খানম

মোঃ নাজমুল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
২ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:২৮ এএম
শেয়ার করুন:
শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে জাতীয় যুব পুরস্কার পেলেন পিরোজপুরের শিরিন খানম

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা এবং সমাজের অনগ্রসর মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিনের আত্মত্যাগের অনন্য স্বীকৃতি পেলেন পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার শিরিন খানম। ‘জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৬’-এ শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক (নারী) ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন তিনি।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় যুব দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে শিরিন খানমের হাতে এ সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।

জানা গেছে, শিরিন খানম পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৮৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্ম নেওয়া শিরিনের বাবা মো. মোজাম্মেল হক এবং মা ফরিদা বেগম। স্নাতক সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হলেও তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে সমাজসেবা ও যুব জাগরণ। 

২০০৭ সালে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘পাইওনিয়ার ইয়ুথ ক্লাব’-এর সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে শিরিনের সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সূচনা হয়। এরপর প্রায় দুই দশক ধরে তিনি বেকার তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। 

শিরিন খানমের উল্লেখযোগ্য সামাজিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন কিশোরীর বাল্যবিয়ে রোধ করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বন্ধ হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে নিয়মিত খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

এ ছাড়া বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচি এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। স্থানীয় যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় পর্যায়ে রাস্তা সংস্কার, কাঠের সাঁকো নির্মাণ ও সংস্কারের মতো অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।

শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও শিরিন পালন করছেন প্রশংসনীয় ভূমিকা। শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণের পাশাপাশি নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করছেন তিনি। বর্তমানে তিনি পাইওনিয়ার ইয়ুথ ক্লাবের পাশাপাশি ‘ইসলামপুর ইউনাইটেড ব্লাড ডোনার ক্লাব’-এর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

তাঁর এই মর্যাদাপূর্ণ অর্জনে পরিবার, সহকর্মী এবং পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। 

পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে শিরিন খানম বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি লাভ আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। এ পুরস্কার সমাজে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন মানুষের কল্যাণে এভাবেই নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি, সবার কাছে সেই দোয়া চাই।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।