আলফাডাঙ্গায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোন্দল প্রকাশ্যে: সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
২ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১১ এএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোন্দল প্রকাশ্যে: সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। দলীয় সাংগঠনিক নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা ও পৌর যুবদলের শীর্ষ নেতারা।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে আলফাডাঙ্গা পৌর সদর বাজারের একটি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শাহিন মোল্লা, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং পৌর বিএনপির সহসভাপতি বাশারুল বারী যৌথভাবে বক্তব্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা অভিযোগ করেন, যুবদলের একটি নিয়মতান্ত্রিক সাংগঠনিক কাঠামো ও শৃঙ্খলা রয়েছে। কিন্তু আলফাডাঙ্গায় দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে উপেক্ষা করে কতিপয় ব্যক্তি যুবদলের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছেন। এতে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে যেমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তেমনি সংগঠনের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তারা বলেন, যুবদল একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি। এখানে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের কোনো সুযোগ নেই। দলের ত্যাগ, আদর্শ ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে কেউ যেন বিভেদ তৈরি করতে না পারে, সেজন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ অক্টোবর বিকেলে ফরিদপুর-১ আসনের বিএনপি নেতা খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুসারীরা উপজেলা বিএনপির ব্যানারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন। তবে ওই কর্মসূচিতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মধ্যে উপজেলা কিংবা পৌর যুবদলের দায়িত্বশীল কমিটির কোনো পদধারী নেতা ছিলেন না। সাংগঠনিক অনুমোদন ও পদবী ছাড়া কীভাবে যুবদলের নামে কর্মসূচি পালন করা হলো, তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর যুবদলের সদস্যসচিব মো. ইমরান হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক নোমিনুল ইসলাম সোহাগ, মো. মনির হোসেন ও আলীরাজ শরীফ, সাবেক আহ্বায়ক মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এস এম মাহমুদুল হাসান ইয়াদ এবং পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. কায়েম শিকদারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মোল্লা বলেন, “যুবদল একটি ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ সংগঠন। দলের আদর্শ, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেই আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছি। কাউকে অবমূল্যায়ন করা বা দলে বিভেদ তৈরি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। দলের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।