এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
বান্দরবানের থানচিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোওয়ে’ (প্রবারণা পূর্ণিমা)। বিগত ২৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এ উৎসব বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নানা ধর্মীয় আচার ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। উপজেলার প্রায় ১১৫টি মারমা গ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
উৎসবের সমাপনী দিনে প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী ‘ক্কলোমপঙ্খি’ রথ শোভাযাত্রা। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সাঙ্গু নদীতে ভক্তদের ভক্তি ও শ্রদ্ধায় রথ বিসর্জন দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, বুদ্ধপূজা, ভিক্ষুসংঘকে পিণ্ডদান (ছোয়াইন দান), পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ এবং বিশেষ ধর্মদেশনা শ্রবণ। সন্ধ্যায় বিহার প্রাঙ্গণ ও বাড়ি বাড়ি হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন এবং আকাশজুড়ে রঙিন ফানুস ওড়ানো হয়। ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ‘জাইকহ্’ নৃত্য, টাকার কল্পতরু দান, পিঠা উৎসব, পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা ও প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতাসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উদ্যাপন কমিটি।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে টানা তিন মাস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নির্দিষ্ট বিহারে অবস্থান করে কৃচ্ছ্রসাধন ও বর্ষাবাসব্রত পালন করেন। আশ্বিনী পূর্ণিমায় আত্মশুদ্ধির এই বর্ষাবাস শেষ হয়। এ উপলক্ষেই মারমা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও বড়ুয়াসহ পাহাড়ি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় প্রবারণা বা ওয়াগ্যোয়াই পোওয়ে উদ্যাপন করে থাকেন।
উৎসবের শুরু থেকে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল, থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর প্রতিনিধি মংশৈম্রাই মারমা এবং বান্দরবান জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মারমা।
এ ছাড়া উৎসব উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বাবু মারমা, সাধারণ সম্পাদক জয় মারমা, কোষাধ্যক্ষ উশৈওয়ান মাস্টার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উবামং মারমা, থানচি প্রেসক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপম, বিএনপি নেতা শৈবাথোয়াই মারমা ও মংএনু মারমা, কৃষক দল নেতা মংসাগ্য মারমা এবং তিন্দু ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী থোয়াইসিংমং মারমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয় মারমা বলেন, “প্রথমবারের মতো এত বড় একটি ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছিলাম। প্রশাসন এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় অত্যন্ত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। এই সম্প্রীতি ভবিষ্যতে সমাজের কল্যাণে কাজ করতে আমাদের আরও বেশি উৎসাহিত করবে।”
উদ্যাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষ উশৈওয়ান মাস্টার জানান, সর্বস্তরের মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও সক্রিয় অংশগ্রহণে এই ধর্মীয় আয়োজন সফল হয়েছে, যা পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
আগস্ট ২১, ২০২৬
অক্টোবর ৫, ২০২৬
অক্টোবর ৭, ২০২৫
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
বরিশাল | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
বান্দরবান | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
রাজনীতি | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয় | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।